দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক দুটি কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহনের পাশাপাশি জনসাধারণের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক দুটির দুরবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে উভয় এলাকার ভুক্তভোগীরা প্রতীকী প্রতিবাদের অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সড়ক দুটিতে জমে থাকা কাঁদামাটিতে ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসী তৈরি করেছেন একটি ভিডিও। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা বোঝাতে চেয়েছেন, চলাচলের সড়ক দুটি এখন আর রাস্তার মতো নেই, বরং তা ধানক্ষেতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাঁদা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ফলে এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই অবস্থা উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শৌলকর গ্রামের একটি সড়কের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব সড়কে কাঁদা-পানি জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা কারও বিরুদ্ধে নয়। তারা এই সমস্যাটির দ্রুত সমাধান চান। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, “বৃষ্টি কমার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজেমিন পরিদর্শনে পাঠানো হবে। তাদের রির্পোটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”