চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবের বিরুদ্ধে নির্ধারিত কক্ষ ছেড়ে বড় কক্ষে অফিস স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আলোচনা না করার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র সংসদটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
গতকাল সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন এজিএস তৌফিক।
ফেসবুক পোস্টে তিনি কক্ষের ব্যাপারে বলেন, “সাংবাদিক সমিতিটির ব্যবহৃত প্রাক্তন কক্ষটি ভিপির জন্য,পরের কক্ষটি জিএস এবং তারপরেরটি এজিএস। এ প্রক্রিয়ায়ই কক্ষ সাজানোর সব আয়োজন চলছিল। জিএস তার জন্য নির্ধারিত কক্ষ ছেড়ে সামনের বড় কক্ষে অফিস স্থাপন করেছেন। যে কক্ষে তিনি শিফট হয়েছেন, সেটিতে সম্পাদকীয় অথবা অন্যান্যদের বসার কথা ছিল। যেহেতু সম্পাদকীয়রা ২য় তলায় শিফট হয়েছেন সেহেতু এই কক্ষটি 'জুলাই কর্ণার' কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের কথা তারা বলেছিল। কিন্তু জুলাই কর্ণার কিংবা মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার কোনোটি না করে কোনোরূপ আলোচনা ছাড়াই বৃহৎ কক্ষটিতে তিনি তার কার্যালয় বানান।”
তৌফিক আরও বলেন, “আমার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে আমার চেয়ার টেবিল এনে রাখা হয় জিএস-এর রুমে। আমার জন্য নির্ধারিত রুম পরিবর্তনের আগে নূন্যতম আমাকে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করা হয়নি।”
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, “চাকসুর বিবৃতি প্রদানের আগে আলোচনা করা হয় না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো কর্মসূচি গ্রহণের আগেও ন্যূনতম জানানো হয় না। আর দশজন শিক্ষার্থী যেভাবে ফেসবুক পেইজে আপডেট দেখেন আমিও সেভাবে দেখি। নির্বাচিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ সহযোগিতার মানসিকতা দেখিয়ে গিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন ছাত্র সংসদকে একটি পক্ষের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। অথচ ছাত্র সংসদ হওয়ার কথা ছিলো সকলের। আমার সাথে যে আচরণ হচ্ছে তা অন্যায় ও বৈষম্য।”
এ বিষয়ে জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “বর্তমানে কোনো সম্পাদক না বসায় রুমটি খালি ছিল, সে কারণেই আমি রুমটি ব্যবহার করছি। পূর্বে যত চাকসু হয়েছে, এজিএসের জন্য যে রুমটি ছিল সেটি ছোট হওয়ায় আমরা তাকে বড় রুম পর্যন্ত দিয়েছি। কিন্তু তার রুমটি আমার রুমের চেয়ে ছোট হওয়ায় সে এই অভিযোগ করেছে।”
সাঈদ আরও বলেন, “প্রত্যেকটি প্রোগ্রামে তিনটি করে চিঠি বা দাওয়াত দেওয়া হয় একটি ভিপির জন্য, একটি জিএসের জন্য এবং আরেকটি এজিএসের জন্য। কিছুদিন আগে মেডিকেল সংক্রান্ত প্রোগ্রামটিতেও আলোচনা হয়েছিল, তবে প্রোগ্রামের দিন এজিএস নিজ দলের কর্মসূচির কারণে ঢাকায় চলে যান। হাদি ভাইকে কেন্দ্র করে চাকসুর পক্ষ থেকে চারটি প্রোগ্রাম করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি একটি প্রোগ্রামেও উপস্থিত ছিলেন না। আমি নিজে দুটি প্রোগ্রামে তাকে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে তাকে রাতে ছাত্রদলের মিছিলে দেখা যায়।”