ads

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার দুটি বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দী প্রায় ১০ হাজার মানুষ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
গঙ্গাচড়ায় তিস্তার দুটি বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দী প্রায় ১০ হাজার মানুষ
ছবি: ইউএনবি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর দুটি বাঁধ ভেঙে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভেঙে যাওয়া বাঁধ দুটি স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছিল।

আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

Advertisement

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে শতাধিক বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, একটি মন্দির, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে।

চর বাঘধোগরা, চর কাছারি, চিলাখাল, বিনবিনিয়া ও মুকুটপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বয়স্ক মানুষ, শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। অনেকে পরিবার নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম হোসেন বলেন, “প্রতি বছরই শত শত মানুষের বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এখনো এর কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মূল বাঁধটি ভেঙে গেলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে। কয়েক হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।”

আরেক বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখেছি আমরা। আমার বাড়িটিও যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। যদি আমার ভিটেমাটি হারিয়ে যায়, তাহলে আমার যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না। কেউ আশ্রয় না দিলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতে হবে।”

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম বলেন, “বারবার নদী ভাঙনে আমাদের বাড়ি-ঘর, কৃষিজমি, একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ও কয়েকটি স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না। আমরা একটি স্থায়ী বাঁধ চাই।”

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “বাঁধ রক্ষায় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো ফেলার কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাম্মৎ জেসমিন আক্তার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আরও ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।”

সম্পর্কিত