যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে। তবে এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আজ সকালেই তিনি ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ড. ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেই কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, “ড. ইউনূস ও তার অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সমালোচনা করা এবং কাউকে প্রকাশ্যে হেনস্তা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা এক বিষয় নয়।”
জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি একধরনের প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড ঘটছে। শুধু ড. ইউনূস নন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি জানান।
একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়কদের কেউ কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এসব ঘটনা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রশ্নে সরকারের কোনো ঘাটতি থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।