Advertisement Banner

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
ছবি: বাসস

বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

আজ শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংক জানায়, এর মধ্যে ০ কোটি ডলার জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সময়সীমাভিত্তিক অর্থায়ন করা হবে। আমন মৌসুমের জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর এবং বোরো মৌসুমের জন্য অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, প্রকল্পটির আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। এর অর্ধেক হবে ইউরিয়া সার। এতে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর ধান উৎপাদন এলাকা প্রকল্পের আওতায় আসবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর।”

তিনি বলেন, “সার সরবরাহ নিশ্চিত, কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক দ্রুত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।”

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলাইমানি কুলিবালি বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আমন ও বোরো ধানের মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুমে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ হয়। এ ছাড়া, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষি খাতে নিয়োজিত।”

তিনি বলেন, সার সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে না, বরং দারিদ্র্য বাড়বে এবং কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে দ্রুত সহায়তা দিতে ব্যবহার করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে সংকটের সময় মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করা যায়।

এ ছাড়া, খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি, পানি এবং অন্য জরুরি সেবা চালু রাখতে জ্বালানি সরবরাহেও অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পের অর্থ চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ কারদেরো বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও মোকাবিলা ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ দ্রুত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।”

তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে তা পৌঁছে দেওয়া এবং সংকটের প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা হবে।

সম্পর্কিত