টানা চতুর্থ দিনের মতো চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ চলছে। বৃষ্টির কারণে বন্দর নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার।
গত রোববার থেকে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার দিনভর টানা বৃষ্টির পর রাতের বেলা কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টির বেগ কমে আসলেও বুধবার ভোররাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ শুরু হয়। তবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী চরচাকে বলেন,“বুধবার সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রের্কড হয়েছে ৭৬ মিলিমিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন চলতে পারে।”
বুধবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরনগরীর কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, জুবিলি রোড, গোয়ালপাড়া, তিনপুলের মাথা,আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, ষোলশহর ফরেস্ট গেট, বড় দিঘীর পাড় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকির্পূণ জায়গা থেকে লোকজনদের সরিয়ে নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবারেও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে ভারি বর্ষণ ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলার আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেলগুলোতে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দিনভর বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে। চট্টগ্রামের রহমান নগর ও রাঙ্গুনিয়াতে দেয়াল ও পাহাড় ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন।