ইরানের সংসদীয় মুখপাত্র আব্বাস গুদারজির বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র প্রসার চুক্তি (এনপিটি) থেকে ইরানের বেরিয়ে যাবে। পাশাপাশি তারা নিজেদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করে খুবই ‘সহজেই অর্জনযোগ্য’ একটি জায়গায় পৌঁছাতে চায়।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, গত রোববার দেওয়া বক্তব্যে গুদারজি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধ অত্যন্ত মৌলিক। তার মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যারা শান্তির কথা বলছেন, তারা মূলত দেশটির কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করাকে প্রতারণা মেনে নেওয়ার শামিল উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন। ওয়াশিংটনের ক্ষেত্রে কেবল ‘শক্তির ভাষা ও শক্তির যুক্তি’ কার্যকর হয়।
গুদারজি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টকে’ দুর্বল করে বা শত্রুপক্ষকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেয়—এমন যেকোনো আলোচনায় অংশ নেওয়া একটি বড় ধরনের ‘কৌশলগত ভুল’ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনপিটি থেকে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নীতি পুনরায় বিবেচনা করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নযোগ্য, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের সঠিক বার্তা দেবে।
১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার প্রচার করা। ইরান এই চুক্তির একটি অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এর পারমাণবিক কার্যক্রম নজরদারির আওতায় রাখতে বাধ্য।
তবে সংসদের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের প্রশাসনিক দিক থেকে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না। তিনি যুক্তি দেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতেই চাইত, তবে তারা কখনই এনপিটি চুক্তিতে যোগ দিত না। এই দুই বিপরীতধর্মী বক্তব্য তেহরানের অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক কৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলে।