Advertisement Banner

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল রেকর্ড প্রায় ১৬ কোটি টাকা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল রেকর্ড প্রায় ১৬ কোটি টাকা
পাগলা মসজিদের টাকা গণনা। ছবি: বাসস

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি টাকা পাওয়া গেছে। দিনব্যাপী গণনা শেষে মসজিদের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্স খোলা হয় এবং রাত ৮টায় গণনার কাজ শেষ হয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, ১৩টি লোহার দানবাক্স থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। গণনায় অংশ নেন প্রায় ৫৯০ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ছয় মাস পর শনিবার সকালে দানবাক্স খোলার সময় ৪৩ বস্তা ভর্তি নগদ অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করেপাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

গণনা শেষে সংগৃহীত অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, দানবাক্সগুলোর মধ্যে ১০টি স্থায়ী লোহার সিন্দুক এবং তিনটি অস্থায়ী ট্রাঙ্ক রয়েছে। সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো খোলা হয়েছে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মোট তহবিলের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এই কর্মকর্তা বলেন, মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনুদান দেওয়া যাচ্ছে। ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোহানা নাসরিন জানান, একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মসজিদের নামে সংলগ্ন ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জমি ইতিমধ্যে কেনা হয়েছে।

নতুন কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে একটি গণশৌচাগারও নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মসজিদের তহবিল থেকে বর্তমানে মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর ব্যয়, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ অন্য ইউটিলিটি বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, তহবিলের মুনাফার একটি অংশ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায়ও ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানান সোহানা নাসরিন।

সম্পর্কিত