ads

তাবিজ দেওয়ার নাম করে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
তাবিজ দেওয়ার নাম করে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
ধর্ষণে প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

Advertisement

গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।

এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্পর্কিত