চরচা প্রতিবেদক

কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ক্যামেরা মেরামতের কাজ ছেড়ে প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শিবলী সাদিক শুভ। নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন সুপার ভাগোয়া জাতের আনারের একটি বাণিজ্যিক বাগান। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৩০০টি আনারগাছ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বাগান পরিচর্যার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাভেরও আশা দেখছেন তিনি।
শিবলী সাদিক শুভ জানান, আগে তিনি টেকনিশিয়ান হিসেবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্র মেরামতের কাজ করতেন। ইলেকট্রনিকস বিষয়ে পড়াশোনা থাকায় সেই অভিজ্ঞতা এখন তিনি কৃষিকাজে কাজে লাগাচ্ছেন।
শিবলী সাদিক জানান, শখের বশে ভারত থেকে সুপার ভাগোয়া জাতের একটি আনারগাছ এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। পরে সেই গাছের ভালো ফলন দেখে গুটি কলমের মাধ্যমে আরও কয়েকটি গাছ তৈরি করেন। একসময় একটি গাছে এক কেজির বেশি ফল পাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, বাণিজ্যিকভাবে এই আনার চাষ লাভজনক হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বাগান সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে তার বাগানে প্রায় ৩০০টি আনারগাছ রয়েছে।
শুভ বলেন, ক্যামেরার মাধ্যমে অনলাইনে বাগান পর্যবেক্ষণ করায় বছরে প্রায় সাত হাজার টাকায় পুরো বাগানের দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষ দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করাতে গেলে বছরে অন্তত এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হতো। সে হিসাবে তিনি প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছেন।
সাদিক জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বাগান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বাগানের বয়স প্রায় আড়াই বছর। তার মতে, শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলন বাড়বে এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।
শুভর ভাষ্য, বর্তমানে একটি গাছে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রতিটি গাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার আনার বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু গাছে সাত থেকে আট হাজার টাকার ফলও আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আনার সারা বছরই ধাপে ধাপে ফল দেয়। এক দফার ফলন শেষ হলে আরেক দফার ফল আসে। বর্তমানে দুই বিঘারও বেশি জমির বাগানে প্রায় ৩০০টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮০টি বড় গাছ এবং বাকিগুলো ছোট। গুটি কলমের মাধ্যমে নতুন চারাও তৈরি করা হয়েছে।
আনার চাষে আগ্রহীদের উদ্দেশে শুভ বলেন, অল্প পরিসরে শুরু করে আগে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। সফলতা এলে পরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তার মতে, এটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং একটি স্বপ্ন। তিনি জানান সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানে না এলে তার ভালো লাগে না। এই পেশায় যে আনন্দ তিনি পান, তা অন্য কোথাও পান না।
শিবলী সাদিক শুভ জানান, বর্তমানে আনার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণভাবে তিনটি আনারে প্রায় এক কেজি হয়। সে হিসাবে একটি আনারের দাম ১২৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পড়ে। আবার কিছু আনার আকারে বড় হওয়ায় সেগুলোর দাম আরও বেশি। গড় হিসেবে একটি আনারের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শুভ বলেন, শুরুতে অনেকেই তার উদ্যোগকে অবাস্তব মনে করেছিলেন। কেউ কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গও করেছিলেন। তবে এখন দেশ-বিদেশ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে আনার খাচ্ছেন এবং চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তার দাবি, আগে বাংলাদেশের মাটিতে আনার চাষ নিয়ে অনেকের সংশয় থাকলেও এখন সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে।
শুভর মতে, বাংলাদেশে আনার চাষ আগে থেকেই সম্ভব ছিল। কিন্তু উপযুক্ত জাতের অভাব এবং নার্সারিগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, এই চাষ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লে একসময় বাংলাদেশে আনার আমদানির প্রয়োজন হবে না, বরং দেশ থেকে আনার রপ্তানিও সম্ভব হবে।

কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ক্যামেরা মেরামতের কাজ ছেড়ে প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শিবলী সাদিক শুভ। নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন সুপার ভাগোয়া জাতের আনারের একটি বাণিজ্যিক বাগান। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৩০০টি আনারগাছ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বাগান পরিচর্যার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাভেরও আশা দেখছেন তিনি।
শিবলী সাদিক শুভ জানান, আগে তিনি টেকনিশিয়ান হিসেবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্র মেরামতের কাজ করতেন। ইলেকট্রনিকস বিষয়ে পড়াশোনা থাকায় সেই অভিজ্ঞতা এখন তিনি কৃষিকাজে কাজে লাগাচ্ছেন।
শিবলী সাদিক জানান, শখের বশে ভারত থেকে সুপার ভাগোয়া জাতের একটি আনারগাছ এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। পরে সেই গাছের ভালো ফলন দেখে গুটি কলমের মাধ্যমে আরও কয়েকটি গাছ তৈরি করেন। একসময় একটি গাছে এক কেজির বেশি ফল পাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, বাণিজ্যিকভাবে এই আনার চাষ লাভজনক হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বাগান সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে তার বাগানে প্রায় ৩০০টি আনারগাছ রয়েছে।
শুভ বলেন, ক্যামেরার মাধ্যমে অনলাইনে বাগান পর্যবেক্ষণ করায় বছরে প্রায় সাত হাজার টাকায় পুরো বাগানের দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষ দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করাতে গেলে বছরে অন্তত এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হতো। সে হিসাবে তিনি প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছেন।
সাদিক জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বাগান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বাগানের বয়স প্রায় আড়াই বছর। তার মতে, শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলন বাড়বে এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।
শুভর ভাষ্য, বর্তমানে একটি গাছে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রতিটি গাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার আনার বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু গাছে সাত থেকে আট হাজার টাকার ফলও আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আনার সারা বছরই ধাপে ধাপে ফল দেয়। এক দফার ফলন শেষ হলে আরেক দফার ফল আসে। বর্তমানে দুই বিঘারও বেশি জমির বাগানে প্রায় ৩০০টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮০টি বড় গাছ এবং বাকিগুলো ছোট। গুটি কলমের মাধ্যমে নতুন চারাও তৈরি করা হয়েছে।
আনার চাষে আগ্রহীদের উদ্দেশে শুভ বলেন, অল্প পরিসরে শুরু করে আগে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। সফলতা এলে পরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তার মতে, এটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং একটি স্বপ্ন। তিনি জানান সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানে না এলে তার ভালো লাগে না। এই পেশায় যে আনন্দ তিনি পান, তা অন্য কোথাও পান না।
শিবলী সাদিক শুভ জানান, বর্তমানে আনার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণভাবে তিনটি আনারে প্রায় এক কেজি হয়। সে হিসাবে একটি আনারের দাম ১২৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পড়ে। আবার কিছু আনার আকারে বড় হওয়ায় সেগুলোর দাম আরও বেশি। গড় হিসেবে একটি আনারের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শুভ বলেন, শুরুতে অনেকেই তার উদ্যোগকে অবাস্তব মনে করেছিলেন। কেউ কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গও করেছিলেন। তবে এখন দেশ-বিদেশ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে আনার খাচ্ছেন এবং চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তার দাবি, আগে বাংলাদেশের মাটিতে আনার চাষ নিয়ে অনেকের সংশয় থাকলেও এখন সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে।
শুভর মতে, বাংলাদেশে আনার চাষ আগে থেকেই সম্ভব ছিল। কিন্তু উপযুক্ত জাতের অভাব এবং নার্সারিগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, এই চাষ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লে একসময় বাংলাদেশে আনার আমদানির প্রয়োজন হবে না, বরং দেশ থেকে আনার রপ্তানিও সম্ভব হবে।

গত ৮ জুলাই স্বামী রনির সাথে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে বাড়ি নিয়ে আসে। ওইদিন বিকেলে মা সীমার সাথে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলে। এরপর সীমার গলা টিপে ধরে নির্জনা।

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে ক্রয় করা মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার টাকা বহাল থাকার পেছনে কোন শক্তির প্রভাব কাজ করেছে—এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।