রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

গত বছর সড়কে প্রাণ গেছে ১০০৮ শিশুর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
গত বছর সড়কে প্রাণ গেছে ১০০৮ শিশুর

গত বছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১ হাজার জন শিশু নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৫৩৭ জন (৫৩.২৭ শতাংশ) বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী অথবা চালক/হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে। আর পথচারী অবস্থায় যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৭১ জন (৪৬.৭২ শতাংশ) শিশু।

পথচারী শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির ধাক্কায় মারা গেছে ১৯৮ জন শিশু (৪২.০৩ শতাংশ)। বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৮৭ জন, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতিতে প্রাণ গেছে ৫৪ জন এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের চাপায় নিহত হয়েছে ৩২ শিশু।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি–৩৬৪ জন (৩৬.১১ শতাংশ)। এরপর গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন, মহাসড়কে ২৮১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ জন শিশু।

এ ছাড়া সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুপুর ও সকালে দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।

বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মৃত্যু সর্বাধিক–৪৪৭ জন। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী নিহত হয়েছে ৩৮২ জন এবং ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী নিহত হয়েছে ১৭৯ জন শিশু।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক এবং দুর্ঘটনার পর পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া।

বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির একেবারে পাশে দিয়ে যান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য সরকারি তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত