ads

শূন্য-দুই থেকে তিন-দুই, বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে সেনেগালের বিদায়

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শূন্য-দুই থেকে তিন-দুই, বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে সেনেগালের বিদায়

নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হতে বাকি আর মাত্র ৪ মিনিট। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগালের সমর্থকরা গ্যালারিতে ইতিমধ্যেই উদযাপন শুরু করে দিয়েছেন নেচে-গেয়ে। তবে তাদের স্পব্ধ করে দিয়ে তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল করার পর শেষ পর্যন্ত জয়টাও তুলে নিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর কান্নাভেজা চোখে বিদায় নিতে হল সেনেগালকে।

এর মধ্য দিয়ে সেনেগাল ফুটবলের জন্য ২০২৬ সাল ভুলে যাওয়ার মতই গেল। এর আগে গত মরক্কোকে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে সেনেগাল দল আফ্রিকার নেশন্স কাপের ফাইনালে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। পরে ফিরে এসে ম্যাচ জিতলেও তাদের শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বকাপ থেকেও তাদের বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে নাটকীয়ভাবেই। শেষ সময়ে দুই গোল হজমের পরও আশা টিকে ছিল টাইব্রেকার লটারির। তবে এখানেও হৃদয়ভঙ্গ। ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ১৬-এর টিকিট পায় বেলজিয়াম।

সেনেগাল তাই কেবল ভাগ্যকেই দুষতে পারেন। কারণ ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ জেতার জন্য যা যা করা দরকার, সেটাই করেছে তারা। ২৫ মিনিটের মাথায় সাদিও মানের ক্রস থেকে হাবিব দিয়ারার হেডে বল গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি শটে বল জালে পাঠান তিনি।

বিরতির পর সেনেগালের দ্বিতীয় গোলটি ছিল দর্শনিয়। মুসা নিয়াখাতের লম্বা করে বাড়ানো পাস বুক দিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন ইসমাইলা সার। এরপর প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলেন।

পুরো ম্যাচেই সেনেগালের আক্রমণ সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। দুই দলই গোলের জন্য ৫টি শট লক্ষ্যে নিলেও ‘এক্সপেক্টেড গোল’-এর দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল সেনেগাল। বেলজিয়ামের ১.৮০% এর বিপরীতে তাদের ছিল ৩.৫৪।

তবে ফুটবল প্রায় সময়ই ভীষণ নিষ্ঠুর। আর তাই অধিকাংশ সময়ই দ্বিতীয় সেরা দল হয়েও শেষের দিকে গিয়ে অনভিজ্ঞতার কারণে খেই হারিয়ে ফেলে আফ্রিকার দেশটি। বদলি নেমে বেলজিয়ামের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোমেলু লুকাকু ৮৬তম মিনিটে একটি গোল শোধ দেন।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই, মাত্র দুই মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় ফের বল সেনেগালের জালে। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে সমতা টানেন ইউরি টিলেমানস।

অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটও যখন ২-২ সমতায় শেষের দিকে, তখনই ভিএআর শেষ করে দেয় সেনেগালের সব আশা। দোদি লুকবাকিয়োর শট ক্রসবারে আঘাত করার পর ভিএআরের দেখা যায়, সেই আক্রমণের শুরুতে টিলেমানসকে ফাউল করেছিলেন লামিন কামারা।

সেনাগালের প্রতিবাদ ও অনেক নাটকীয়তার পর সাত মিনিট বিলম্বে বেলজিয়ামকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। প্রচণ্ড চাপের মুখে ঠাণ্ডা মাথায় টিলেমানস লক্ষ্যভেদ করেন। তার করা ১২৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের এই গোলটি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দেরিতে হওয়ার গোলের রেকর্ড।

শেষ ১৬-তে বেলজিয়াম খেলবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র অথবা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।

সম্পর্কিত