পর্যালোচনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

আদানির সঙ্গে চুক্তি: বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি বাংলাদেশের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আদানির সঙ্গে চুক্তি: বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি বাংলাদেশের
আদানি গ্রুপ। ছবি: রয়টার্স

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি। তারা বলছে, ২৫ বছর মেয়াদী এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানী চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটি বলছে, গত দেড় দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৯ সালে বিপিডিবির বার্ষিক লোকসান ছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আড়ালে প্রতিযোগিতাহীন চুক্তির ফলে এই খাতে লুটপাটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে কমিটির সদস্যরা বলেন, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাই ছিল এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য।

কমিটির সদস্য বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে সম্পাদিত চুক্তিটি দুর্নীতির এক বড় উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে।

কমিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই ঝাড়খন্ডের কয়লা ব্যবহার করার সুযোগ নেই জেনেও অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি করে ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্র্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আগের সরকার।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, আদানি চুক্তির পেছনে দুর্নীতির ‘কংক্রিট’ প্রমাণ পাওয়া গেছে। হুইসেলব্লোয়ারদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তারিখ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের তথ্যও মিলেছে। তিনি জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ১৪ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন চার গুণ বাড়লেও বেসরকারি আইপিপিদের বিল বেড়েছে ১১ গুণ। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে টাকা দেওয়ার হার বেড়েছে ২০ গুণ। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারযোগ্য নয়, যার জন্য প্রতি বছর প্রায় ০.৯ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার দণ্ড দিতে হচ্ছে।

কমিটি বলছে, বিপিডিবিকে দেউলিয়া দশা থেকে বাঁচাতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮৬ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে। যেসব চুক্তিতে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য উচ্চব্যয়ী চুক্তিগুলো পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।

সম্পর্কিত