ads

ভারতের আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে: এএফপি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভারতের আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে: এএফপি
ভুলভাবে শেয়ার করা নথিটির সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির তুলনা করে ভাষা, বিন্যাস এবং কাঠামোতে অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ’ আন্দোলন। এমন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বিক্ষোভকারীদের মুসলিম সমর্থক থাকার মিথ্যা দাবি করে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আন্দোলনটির 'উদ্দেশ্যের' প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সমর্থনের একটি কথিত বিবৃতি প্রচারিত হয়।

কিন্তু দলটির একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, “বিবৃতিটি একটি জালিয়াতি। নথিটিতে ভুল রয়েছে এবং শনাক্তকরণ মাধ্যমগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি বলে চিহ্নিত করেছে।”

Advertisement

গত ২১ জুলাই একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভারতে চলমান সিজেপি বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।”

এই পোস্টে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র আদ্যক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। মে মাসে চালু হওয়ার পর থেকে এই অনলাইন আন্দোলনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ লক্ষ অনুসারী অর্জন করেছে।

পোস্টটিতে আরও বলা হয়েছে, “দিন দিন চিত্রটি স্পষ্ট হচ্ছে এবং এই প্রতিবাদের উদ্দেশ্য যে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী, তা পরিষ্কার!”

পোস্টটির সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জারি করা একটি কথিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভারতে যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে এবং ‘বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের দমন-পীড়ন, সহিংসতা বা অবিচারের’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হলে একই ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) অনলাইন আন্দোলনের দাবিগুলো দেশব্যাপী সমাবেশগুলোতে প্রতিধ্বনিত হয়েছে এবং আন্দোলনটি তার পরিধি প্রসারিত করে বেকারত্ব, তরুণদের জন্য সুযোগ এবং মোদির ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনশৈলী বলে অভিহিত বিষয়গুলোর মতো উদ্বেগ মোকাবেলার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

গত ২০ জুলাই দিল্লিতে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম এক গণ-সমাবেশ চলাকালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সংসদ অভিমুখে মিছিল করা থেকে বিরত রাখতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৬০ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১৯ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভ আয়োজনকারীরা বলছেন, শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

কথিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি একই ধরনের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে এবং একটি ভারতীয় নিউজ চ্যানেলের মাধ্যমেও শেয়ার করা হয়েছিল।

“এই আন্দোলনের পেছনের আসল পরিকল্পনাকারী হলো দেশের বাইরের সেই সব শক্তি, যারা ভারতে অশান্তি চায়,” পোস্টগুলোর একটিতে মন্তব্যের ঘরে এমনটা লেখা হয়েছে।

মন্তব্যের ঘরে অন্য আরেকজন লিখেছেন, “বিদেশি ইসলামী জিহাদিরাই এই আন্দোলনের আসল অর্থদাতা; এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিই তার প্রমাণ।”

কিন্তু বিবৃতিটি মনগড়া।

গত ২১ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এএফপিকে বলেন, “কথিত বিবৃতিটি 'জাল, প্রতারণামূলক এবং এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি'।”

তিনি বলেন, “ভুয়াভাবে শেয়ার করা পোস্টে ব্যবহৃত লেটারহেড/প্যাডে বেশ কয়েকটি ভুল রয়েছে। ভাইরাল পোস্টে দেখা লোগোটি জামায়াত ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত অফিসের ঠিকানা এবং পরিচয়পত্রও জামায়াতের ব্যবহৃত তথ্যের সাথে মেলে না।”

দলটি ২১ জুলাই তাদের দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বানোয়াট বিবৃতিটি ছড়ানোর নিন্দা জানিয়েছে।

নথিটির অন্যান্য ভুলের মধ্যে রয়েছে লেটারহেড লোগোতে 'Bangladesh' শব্দটির ভুল বানান এবং উদ্বোধনী অনুচ্ছেদে 'courageous' শব্দটির ভুল। ভুলভাবে শেয়ার করা নথিটির সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্ভরযোগ্য প্রেস বিজ্ঞপ্তির তুলনা করে ভাষা, বিন্যাস এবং কাঠামোতে অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

হাইভ মডারেশন ডিটেকশন টুলের একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, নথিটিতে এআই-সৃষ্ট বিষয়বস্তু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত