প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী ঘনিষ্ঠজনের হাতে খুন হন: জাতিসংঘ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী ঘনিষ্ঠজনের হাতে খুন হন: জাতিসংঘ
মেক্সিকোতে এক মা তার খুন হওয়া মেয়ের ছবি একটি লকেটে রেখেছেন। ছবি: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার সঙ্গী বা পরিবারের কোনো সদস্যের হাতে খুন হন বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নারী হত্যার ঘটনা ‘উদ্বেগজনকভাবে উচ্চমাত্রায়’ রয়ে গেছে বলে গতকাল সোমবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূল দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত বছর ২০২৪ সালে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও মেয়েকে তাদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে। এরমধ্যে ৬০ শতাংশ নারীকে তার সঙ্গী বা আত্মীয় যেমন বাবা, চাচা, মা এবং ভাই হত্যা করেছে। যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি মাত্র ১১ শতাংশ।

১১৭টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রতি বছর ৫০ হাজার নারী, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ জন এবং প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানটি নারীর প্রতি সহিংসতা এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর হাজারো নারী ও মেয়ের জীবন কেড়ে নিচ্ছে নারী নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড। এই প্রবণতার ক্ষেত্রে কোনো উন্নতিও চোখে পড়ছে না।

তাছাড়া নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী সহিংসতার ঝুঁকির ক্ষেত্রে নিজের বাড়ি এখনো সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবেই রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের কোনো অঞ্চলই নারী নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্ত নয়। এরমধ্যে আফ্রিকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে ২০২৪ সালে প্রায় ২২ হাজার নারী তাদের নিকটজনের হাতে খুন হয়েছেন।

জাতিসংঘের নারী নীতি বিভাগের পরিচালক সারাহ হেন্ড্রিক্স বলেছেন, নারী হত্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি প্রায়ই ধারাবাহিক সহিংসতার একটি অংশ, যা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, হুমকি ও অনলাইন হয়রানি থেকে শুরু হতে পারে।

হেন্ড্রিক্স বলেন, “অনলাইন এবং অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই নারী ও মেয়েদের জীবনে সহিংসতা কীভাবে প্রকাশ পায় তা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সেইসঙ্গে অপরাধীরা মারাত্মক হওয়ার আগেই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা জরুরি।”

সম্পর্কিত