চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারমান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ চরচাকে বলেন, অবিযোগ সন্দোহীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। ঘটনার ২৭ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার কাজ শেষ হলো।
আদালত থেকে জানা গেছে, মোট ৫ কার্যদিবসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এর আগে অভিযোগপত্র গ্রহণ এবং অভিযোগ গঠন শুনানি হয় দুই কার্যদিবসে। সব মিলিয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর আট কর্মদিবসের দিন রায় ঘোষণা করা হলো।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকালে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় ডেকোরেটর কর্মচারী ৩২ বছর বয়সী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের একটি ট্রাকে আগুনও দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মনিরকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পরদিন ২২ মে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গ্রেপ্তার মনির।
ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় গত ৪ জুন বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলায় গত ১০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত সোমবার আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামি মনির হোসেন নিজেকে 'নির্দোষ' দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি। মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন আদালত।
এই মামলার একমাত্র আসামি ৩২ বছর বয়সী মনির হোসেন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।