সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, পিপার স্প্রে ব্যবহারসহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত কর্মকর্তার দিদারুল আলম আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন। তবে রিমান্ড শুনানি না হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে আজকের জন্য দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন।
আজ দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে তোলা হয়। পরে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ভাটারা থানাধীন এলাকার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারনামীয় ১৭ নম্বর আসামি জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়ক হবে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে অবস্থান করে সারাদিন থাকে। দিনভর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তায় অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম চালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে। জনসাধারণের চলাচলে এবং খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন, সেজন্য রাস্তায় ত্রাস সৃষ্টি করে। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয় এবং রাস্তায় বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে।
খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।