‘তুমি কে আমি কে, ইউরেনিয়াম ইউরেনিয়াম’

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘তুমি কে আমি কে, ইউরেনিয়াম ইউরেনিয়াম’
‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগানের উত্তরে শিক্ষার্থীরা তীর্যক স্লোগান দেয় ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত কনসার্টে স্লোগান দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্রুপাত্মক জবাবের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

গতকাল শনিবার রাতে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ডাকসুর যৌথ আয়োজনে ‘কুয়াশার গান’ নামক ওই কনসার্টে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কনসার্ট চলাকালে মঞ্চে আসেন মোসাদ্দেক। তিনি তখন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার বিপরীতে ‘ইউরেনিয়াম’ এবং ‘যুক্তরাজ্যের চাকরি’র মতো স্লোগান দিতে থাকেন।

মোসাদ্দেক যখন ‘কোটা না মেধা’, ‘গোলামি না সংস্কার’ ও ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগান দেন, শিক্ষার্থীরা পাল্টা স্লোগান দেন ‘কোটা, কোটা’, ‘গোলামি, গোলামি’, ‘আপস, আপস’। আবার একাংশ ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে বিদ্রুপ করতে থাকেন তাকে।

‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগানের উত্তরে শিক্ষার্থীরা তীর্যক স্লোগান দেয় ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের আলোচিত স্লোগান ‘দিয়েছি তো রক্ত’- এর জবাবেও বলতে শোনা যায় ‘আরও দেব ইউরেনিয়াম’।

বর্তমান সময়ের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করেই শিক্ষার্থীরা এমন স্লোগান দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, এই কনসার্টে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কর্মকাণ্ডে ডাকসুর মতো একটি দায়িত্বশীল সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনা নিয়ে তাদরে মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের তামাকজাত পণ্যের প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) ধারা ৫(খ) বলছে, তামাকজাত দ্রব্য কিনতে প্রলুব্ধ করে, এমন কোনো কাজ করাই নিষিদ্ধ। বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে বিক্রিও এর আওতাতেই পড়ে। ধারা ৫(গ) অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা এর ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহনও অপরাধ।

সম্পর্কিত