ads

স্বীকৃতির অপেক্ষায় সারা দেশের অস্থায়ী ডাককর্মীরা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
স্বীকৃতির অপেক্ষায় সারা দেশের অস্থায়ী ডাককর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া (অবিভাগীয়) বা এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) ২৩ হাজারের বেশি কর্মচারী এখনো বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে তারা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে ডাক বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

Advertisement

বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সারা দেশের অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক কর্মচারীরা গত ৬ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

এই কর্মসূচির ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শাখা ডাকঘরগুলোর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কারণ এসব ডাকঘরের সিংহভাগ কাজই ইডি কর্মচারীদের ওপর নির্ভরশীল।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মচারীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমানে দেশে ৮ হাজার ৫৪৩টি এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল ব্রাঞ্চ অফিসে (শাখা ডাকঘর) ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত আছেন।

বর্তমানে পোস্টমাস্টার পদমর্যাদার একজন ইডিএ ((এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এজেন্ট) মাসিক ৪ হাজার ৪৬০ টাকা ভাতা পান। পোস্টম্যান পদমর্যাদার একজন ইডিডিএ (এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল ডেলিভারি এজেন্ট) পান ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, একজন রানার পদমর্যাদার ইডিএমসি (এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল মেইল ক্যারিয়ার) পান ৪ হাজার ১৭৭ টাকা এবং ইডি নৈশপ্রহরীরা পান মাত্র ৪ হাজার টাকা।

ঝিনাইদহের গোপালপুর শাখা ডাকঘরের ইডিএ ও আন্দোলনকারী রিপন হোসেন বলেন, "বছরের পর বছর ধরে আমরা বৈষম্যের শিকার।"

তিনি জানান, ২০১৮ সালে আন্দোলনের পর তৎকালীন সরকার ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

রিপন বলেন, "আমরা কোনো উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসও পাই না। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এত অল্প আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করা অসম্ভব।"

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী কর্মবিরতির কারণে সাধারণ গ্রাহকেরাও বিপাকে পড়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ডাকঘরে আসা মিজানুর রহমান বলেন, "কয়েক দিন ধরে ঘুরছি। জানানো হয়েছে, কর্মচারীরা ধর্মঘটে থাকায় কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। সময়মতো কাগজপত্র না পেলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে।"

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, কর্মবিরতির কারণে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ঝিনাইদহের প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কর্মবিরতির কারণে গ্রামীণ এলাকার ডাকসেবা ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, "জমির নথি, নিয়োগপত্র ও আদালতের কাগজপত্রের মতো জরুরি ডাক বিকল্প ব্যবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও জানান, অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

সম্পর্কিত