সুদীপ্ত সালাম

যখন বেঁচে ছিলেন, তখনই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি। সেই কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে তার ‘স্বেচ্ছা নির্বাসন’। হ্যাঁ, বলছি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কথা। জীবনের শেষ তিরিশটি বছর তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। কেউ তাকে বলেনি তা করতে, ক্যামেরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি–তবুও তিনি বেছে নিয়েছিলেন একাকিত্বের জীবন।
আমরা দেখেছি, চিত্রনায়িকাদের বয়স বেড়ে গেলে তারা বড়বোন, মা কিংবা শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেন। সুচিত্রা তা করেননি। তার বয়স যখন ৪৪, তখন তিনি ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্ধি’ সিনেমায় সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। সেখানে তিনি মেকআপ নিয়ে বয়স্ক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই সিনেমার কয়েক বছর পরই তিনি সিনেমা থেকে অবসরই নিলেন না–সবার সামনে আসাও ছাড়লেন।
তিনি কেন যে নিজেকে জনপরিসর থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন–তা আজও এক রহস্য। অনেকে মনে করেন, তিনি আসলে চাননি তার বার্ধক্যের ছবি প্রচার হোক। তিনি চেয়েছিলেন চিরচেনা চিত্রনায়িকা সুচিত্রার ছবিই অটুট থাকুক ভক্তদের স্মৃতিতে।
তবে অনেকের মতে, সুচিত্রা সেন এক ধরনের ‘নির্বাসন ব্রত’ পালন করতেন। দিবানাথ সেনের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি মেয়ে মুনমুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। নিজেকে সঁপে দেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের ভক্তিতে। তিনি ১৯৭৩ সালে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী বীরেশ্বরানন্দর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন। সুচিত্রার ঠাকুরঘর জুড়ে ছিল রামকৃষ্ণের ছবি। তার বিছানায় মাথার কাছে থাকত ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’। সবার অজান্তে স্বামী অভয়ানন্দ–ভরত মহারাজের কাছে প্রায়ই যেতেন সুচিত্রা। বেলুড় মঠের স্বামী সুবেদানন্দ জানিয়েছেন, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতেন এ মহানায়িকা। জপ-ধ্যান-পূজায় কাটাতেন প্রতিটি দিন। মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত সুচিত্রার সঙ্গে বেলুড় মঠের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ সিনেমা ‘প্রণয় পাশা’। ছবিটি চলেনি। এর মানে কিন্তু এ নয় যে, তার একের পর এক ছবি ফ্লপ হচ্ছিল। ‘প্রণয় পাশা’র আগের সিনেমাই তো ব্লকবাস্টার। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির নাম ‘দত্তা’, সুচিত্রার সঙ্গে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তারও আগে ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় বাংলা সিনেমা ‘প্রিয় বান্ধবী’ এবং হিন্দি সিনেমা ‘আন্ধি’, দুটোই সুপারহিট। এমন হয়–অনেক সময় অভিনয়শিল্পী যখন দেখেন একের পর এক সিনেমা ফ্লপ হচ্ছে, তখন তিনি কাজ ছেড়ে দেন, অনেক সময় পরিচালক-প্রযোজকরাও আর ফ্লপ নায়ক-নায়িকাকে নিয়ে কাজ করার ঝুঁকি নিতে চান না। ১৯৫১ সালে উত্তম কুমার যে কারণে সিনেমা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, সুচিত্রার ক্ষেত্রে একদমই তা নয়।
তারপরও তিনি সিনেমাকে চিরদিনের জন্য ছাড়লেন। লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, শেষ সিনেমাটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর সুচিত্রা ছুটে গিয়েছিলেন সেই গুরু ভরত মহারাজের কাছে। গুরু নাকি তাকে বলেছিলেন, ‘মা, লোভ কোরো না’। ওই পরামর্শই সুচিত্রাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। তখন থেকেই লোভ ত্যাগ করে নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেন।
তথ্যসূত্র

যখন বেঁচে ছিলেন, তখনই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি। সেই কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে তার ‘স্বেচ্ছা নির্বাসন’। হ্যাঁ, বলছি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কথা। জীবনের শেষ তিরিশটি বছর তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। কেউ তাকে বলেনি তা করতে, ক্যামেরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি–তবুও তিনি বেছে নিয়েছিলেন একাকিত্বের জীবন।
আমরা দেখেছি, চিত্রনায়িকাদের বয়স বেড়ে গেলে তারা বড়বোন, মা কিংবা শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেন। সুচিত্রা তা করেননি। তার বয়স যখন ৪৪, তখন তিনি ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্ধি’ সিনেমায় সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। সেখানে তিনি মেকআপ নিয়ে বয়স্ক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই সিনেমার কয়েক বছর পরই তিনি সিনেমা থেকে অবসরই নিলেন না–সবার সামনে আসাও ছাড়লেন।
তিনি কেন যে নিজেকে জনপরিসর থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন–তা আজও এক রহস্য। অনেকে মনে করেন, তিনি আসলে চাননি তার বার্ধক্যের ছবি প্রচার হোক। তিনি চেয়েছিলেন চিরচেনা চিত্রনায়িকা সুচিত্রার ছবিই অটুট থাকুক ভক্তদের স্মৃতিতে।
তবে অনেকের মতে, সুচিত্রা সেন এক ধরনের ‘নির্বাসন ব্রত’ পালন করতেন। দিবানাথ সেনের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি মেয়ে মুনমুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। নিজেকে সঁপে দেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের ভক্তিতে। তিনি ১৯৭৩ সালে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী বীরেশ্বরানন্দর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন। সুচিত্রার ঠাকুরঘর জুড়ে ছিল রামকৃষ্ণের ছবি। তার বিছানায় মাথার কাছে থাকত ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’। সবার অজান্তে স্বামী অভয়ানন্দ–ভরত মহারাজের কাছে প্রায়ই যেতেন সুচিত্রা। বেলুড় মঠের স্বামী সুবেদানন্দ জানিয়েছেন, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতেন এ মহানায়িকা। জপ-ধ্যান-পূজায় কাটাতেন প্রতিটি দিন। মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত সুচিত্রার সঙ্গে বেলুড় মঠের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ সিনেমা ‘প্রণয় পাশা’। ছবিটি চলেনি। এর মানে কিন্তু এ নয় যে, তার একের পর এক ছবি ফ্লপ হচ্ছিল। ‘প্রণয় পাশা’র আগের সিনেমাই তো ব্লকবাস্টার। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির নাম ‘দত্তা’, সুচিত্রার সঙ্গে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তারও আগে ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় বাংলা সিনেমা ‘প্রিয় বান্ধবী’ এবং হিন্দি সিনেমা ‘আন্ধি’, দুটোই সুপারহিট। এমন হয়–অনেক সময় অভিনয়শিল্পী যখন দেখেন একের পর এক সিনেমা ফ্লপ হচ্ছে, তখন তিনি কাজ ছেড়ে দেন, অনেক সময় পরিচালক-প্রযোজকরাও আর ফ্লপ নায়ক-নায়িকাকে নিয়ে কাজ করার ঝুঁকি নিতে চান না। ১৯৫১ সালে উত্তম কুমার যে কারণে সিনেমা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, সুচিত্রার ক্ষেত্রে একদমই তা নয়।
তারপরও তিনি সিনেমাকে চিরদিনের জন্য ছাড়লেন। লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, শেষ সিনেমাটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর সুচিত্রা ছুটে গিয়েছিলেন সেই গুরু ভরত মহারাজের কাছে। গুরু নাকি তাকে বলেছিলেন, ‘মা, লোভ কোরো না’। ওই পরামর্শই সুচিত্রাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। তখন থেকেই লোভ ত্যাগ করে নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেন।
তথ্যসূত্র