কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বে যে নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় যুবসমাজকে উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুবসমাজই সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ।”
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যে নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, তা সভ্যতার জন্য একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে।”কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে যুবকদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি দিয়ে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার গভীরতা এতটাই বেশি যে, আগামীকাল বা পরশু আমরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, তা অনেকাংশেই অনুমান করা কঠিন।” তাই পুরোনো জ্ঞান ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান, নতুন দক্ষতা ও নতুন সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, “নতুন ইকোসিস্টেমের জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য তরুণদের উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া এখন আর শুধু একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য এটি একটি অনিবার্য বিনিয়োগ।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।