যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
আগামী রোববার পর্যন্ত তদন্ত কমিটিকে সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আমিনুল হক জানান, গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে তার কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে।
বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল আছে কি না, তা যাচাই করতে বলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অনুতাপ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরিপ্রত্যাশীরা এসেছিলেন। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে অনেক পরীক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা কষ্ট পেয়েছেন। এর জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্ত কমিটির সময় বাড়ল
তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে কমিটি আরও সময় চেয়েছে। এ জন্য আগামী রোববার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আগের কোনো চক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থা ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কাজ করছে।
পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল গঠন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।
আমিনুল হক জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বাইরে থেকে যারা প্রশ্নপত্র ছাপানো বা ফটোকপি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।