কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতিকারী অনধিকার প্রবেশ করে। সে সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রাম দা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদি তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের নিকট থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে একজন বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ আসামিদের আটক রাখার আবেদনে বলেন, “মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।”