গুম প্রতিরোধে সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানায় আসক।
আসক বলেছে, গুম প্রতিরোধে প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর দিবসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ২০০৬ সালে জাতিসংঘের গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) গ্রহণের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Victims first. Actions now’–অর্থাৎ ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসক বলেছে, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে গুমের অভিযোগ ও এর ভয়াবহ মানবিক পরিণতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী কনভেনশনে যোগ দেয়। এটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার।
তবে কনভেনশনে যোগ দেওয়ার পরও চলতি বছরে দেশে নতুন করে গুমের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে আসক। সংগঠনটি বলেছে, বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নামের এক তরুণকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানিয়েছে আসক।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আসক। একই সঙ্গে খসড়াটির কিছু বিধান নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি বলেছে, অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।