চরচা ডেস্ক

কিছু যাত্রী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের সময় সরাসরি হেঁটে চলে যান, আবার কিছু যাত্রীদের নথিপত্র সংগ্রহ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করা এবং ভিসার অনুমোদনের চিন্তায় ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কেন এমনটি হয়। এর মূল কারণ হলো পাসপোর্ট। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নথি নয়। এটি একটি দেশের বৈশ্বিক সম্পর্ক, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তার মান এবং বিদেশের মাটিতে সে দেশের নাগরিকদের আচরণের প্রতিফলন ঘটায়।
পাসপোর্টের শক্তিশালী মোবিলিটি স্কোর বা চলাচলের স্বাধীনতা থাকায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ হঠাৎ করেই কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। অন্যদিকে, অন্যদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয় কারণ তাদের নথিপত্র অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়ে।
পাসপোর্টের ক্ষমতা নির্ধারিত হয় দীর্ঘমেয়াদী নীতি, বৈশ্বিক ধারণা এবং বার্ষিক হালনাগাদের মাধ্যমে, যা পরিমাপ করে একজন ভ্রমণকারী কত সহজে সীমান্ত পার হতে পারেন।
একটি দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী হবে তা মূলত বেশ কিছু বৈশ্বিক সূচকের ওপর নির্ভর করে। নিচে এর মূল কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক: কূটনীতি হলো আন্তর্জাতিক চলাচলের প্রধান ভিত্তি। যেসব দেশের সাথে অন্য দেশগুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক, প্রতিরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকে, তারা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ভিসা শিথিলকরণ চুক্তি করে। যেমন—সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো দেশগুলোর চমৎকার কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক তাদের নাগরিকদের প্রায় সারা বিশ্বে বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।
২. অর্থনৈতিক সক্ষমতা: একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তার নাগরিকদের ‘ঝুঁকিমুক্ত পর্যটক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। উন্নত ও উচ্চ আয়ের দেশের নাগরিকদের অন্য দেশে গিয়ে অবৈধভাবে থাকার বা কাজ করার প্রবণতা কম থাকে বলে মনে করা হয়। ফলে সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখে।
৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা: যে দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, আন্তর্জাতিক মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। অস্থিতিশীল বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে কঠোর ভিসা নীতি অনুসরণ করা হয়, কারণ তাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শরণার্থী সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪. আন্তর্জাতিক জোট ও চুক্তি: আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ পাসপোর্টকে রাতারাতি শক্তিশালী করতে পারে। যেমন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো বা শেনজেন এলাকার দেশগুলো একে অপরের ভূখণ্ডে অবাধ চলাচলের সুবিধা পায়। ফলে এই জোটভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় প্রথম দিকে থাকে।
৫. উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি: একটি দেশের পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত উন্নত, বিশ্বজুড়ে তার বিশ্বাসযোগ্যতা তত বেশি। আধুনিক বায়োমেট্রিক ডাটা, ই-চিপ এবং জালিয়াতি-বিরোধী প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন পার হওয়া অনেক সহজ হয়।
৬. ভ্রমণকারীর আচরণ: পাসপোর্টের শক্তির পেছনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত আচরণেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। যদি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা বিদেশে গিয়ে আইন মেনে চলেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিজ দেশে ফিরে আসেন তবে সেই দেশের প্রতি অন্যান্য দেশের আস্থা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে ভিসা সহজীকরণ করা হয়।
কেন পাসপোর্ট শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?
শক্তিশালী পাসপোর্ট মানেই হলো নাগরিকের জন্য বেশি স্বাধীনতা এবং কম বাধা-বিপত্তি। উচ্চ মোবিলিটি স্কোরসম্পন্ন পাসপোর্টের মালিকরা হঠাৎ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ বা জরুরি চিকিৎসা বা পর্যটনের জন্য যেকোনো দেশে যেতে পারেন। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। বিপরীতে, দুর্বল পাসপোর্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ নথিপত্র প্রদান, ইন্টারভিউ এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।
পাসপোর্টের শক্তি কেবল কাগজের গুণমান বা প্রযুক্তিতে নয়, বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতির প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের পাসপোর্ট তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়। একটি শক্তিশালী পাসপোর্ট বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে আপনার মর্যাদাকে উচ্চতর আসীন করে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

কিছু যাত্রী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের সময় সরাসরি হেঁটে চলে যান, আবার কিছু যাত্রীদের নথিপত্র সংগ্রহ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করা এবং ভিসার অনুমোদনের চিন্তায় ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কেন এমনটি হয়। এর মূল কারণ হলো পাসপোর্ট। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নথি নয়। এটি একটি দেশের বৈশ্বিক সম্পর্ক, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তার মান এবং বিদেশের মাটিতে সে দেশের নাগরিকদের আচরণের প্রতিফলন ঘটায়।
পাসপোর্টের শক্তিশালী মোবিলিটি স্কোর বা চলাচলের স্বাধীনতা থাকায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ হঠাৎ করেই কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। অন্যদিকে, অন্যদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয় কারণ তাদের নথিপত্র অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়ে।
পাসপোর্টের ক্ষমতা নির্ধারিত হয় দীর্ঘমেয়াদী নীতি, বৈশ্বিক ধারণা এবং বার্ষিক হালনাগাদের মাধ্যমে, যা পরিমাপ করে একজন ভ্রমণকারী কত সহজে সীমান্ত পার হতে পারেন।
একটি দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী হবে তা মূলত বেশ কিছু বৈশ্বিক সূচকের ওপর নির্ভর করে। নিচে এর মূল কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক: কূটনীতি হলো আন্তর্জাতিক চলাচলের প্রধান ভিত্তি। যেসব দেশের সাথে অন্য দেশগুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক, প্রতিরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকে, তারা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ভিসা শিথিলকরণ চুক্তি করে। যেমন—সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো দেশগুলোর চমৎকার কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক তাদের নাগরিকদের প্রায় সারা বিশ্বে বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।
২. অর্থনৈতিক সক্ষমতা: একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তার নাগরিকদের ‘ঝুঁকিমুক্ত পর্যটক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। উন্নত ও উচ্চ আয়ের দেশের নাগরিকদের অন্য দেশে গিয়ে অবৈধভাবে থাকার বা কাজ করার প্রবণতা কম থাকে বলে মনে করা হয়। ফলে সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখে।
৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা: যে দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, আন্তর্জাতিক মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। অস্থিতিশীল বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে কঠোর ভিসা নীতি অনুসরণ করা হয়, কারণ তাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শরণার্থী সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪. আন্তর্জাতিক জোট ও চুক্তি: আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ পাসপোর্টকে রাতারাতি শক্তিশালী করতে পারে। যেমন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো বা শেনজেন এলাকার দেশগুলো একে অপরের ভূখণ্ডে অবাধ চলাচলের সুবিধা পায়। ফলে এই জোটভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় প্রথম দিকে থাকে।
৫. উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি: একটি দেশের পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত উন্নত, বিশ্বজুড়ে তার বিশ্বাসযোগ্যতা তত বেশি। আধুনিক বায়োমেট্রিক ডাটা, ই-চিপ এবং জালিয়াতি-বিরোধী প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন পার হওয়া অনেক সহজ হয়।
৬. ভ্রমণকারীর আচরণ: পাসপোর্টের শক্তির পেছনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত আচরণেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। যদি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা বিদেশে গিয়ে আইন মেনে চলেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিজ দেশে ফিরে আসেন তবে সেই দেশের প্রতি অন্যান্য দেশের আস্থা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে ভিসা সহজীকরণ করা হয়।
কেন পাসপোর্ট শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?
শক্তিশালী পাসপোর্ট মানেই হলো নাগরিকের জন্য বেশি স্বাধীনতা এবং কম বাধা-বিপত্তি। উচ্চ মোবিলিটি স্কোরসম্পন্ন পাসপোর্টের মালিকরা হঠাৎ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ বা জরুরি চিকিৎসা বা পর্যটনের জন্য যেকোনো দেশে যেতে পারেন। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। বিপরীতে, দুর্বল পাসপোর্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ নথিপত্র প্রদান, ইন্টারভিউ এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।
পাসপোর্টের শক্তি কেবল কাগজের গুণমান বা প্রযুক্তিতে নয়, বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতির প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের পাসপোর্ট তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়। একটি শক্তিশালী পাসপোর্ট বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে আপনার মর্যাদাকে উচ্চতর আসীন করে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি