ads

ডিজিটাল নজরদারিতে জীবন: বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘অ্যালগো-রিদমিক-বডিজ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ডিজিটাল নজরদারিতে জীবন: বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘অ্যালগো-রিদমিক-বডিজ
ছবি: চরচা

ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘অ্যালগো-রিদমিক-বডিজ’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী যৌথ শিল্প প্রদর্শনী। আটজন বহুমুখী শিল্পীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে সমকালীন জীবনে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

শর্মিলী রহমানের কিউরেশনে গত ১০ জুলাই প্রদর্শনীটি শুরু হয়। এতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন—দীপ্তি দত্ত, ফাহিম হাসিন, জয়ন্তী রায়না, নাজনীন আহমেদ, রাজীব দত্ত, সাদিয়া মারিয়াম, সৌম্য সাহা এবং ওয়ালিদ সাদ্দাম।

Advertisement

ডিজিটাল নজরদারি, দৃশ্যমানতা, নিজস্ব কর্তৃত্ব এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাবের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি করা এই প্রদর্শনী দর্শকদের ডেটা-চালিত আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করছে। আয়োজকদের মতে, প্রদর্শনীটি বস্তুগোষ্ঠীর সঙ্গে মানিয়ে চলার পরিবর্তিত সম্পর্ক, দৃশ্যমানতা ও বিলুপ্তির লিঙ্গভিত্তিক রাজনীতি, ব্যক্তিগত ও পাবলিক জীবনের অস্পষ্ট সীমারেখা এবং অ্যালগরিদমিক পদ্ধতির পরিবেশগত পরিণতি বিশ্লেষণ করে।

অনিশ্চয়তা ও বাস্তব জীবনের জটিলতাকে আলিঙ্গন করে ‘অ্যালগো-রিথমিক-বডিজ’ মানবদেহকে একটি প্রতিরোধী সত্তা হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে—যা মানুষকে শ্রেণীবদ্ধ করা, অপ্টিমাইজ করা বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তৈরি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। এখানে দৃশ্যশিল্প, আলোকচিত্র, স্থাপত্য, সংগীত এবং গবেষণার মতো বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রের প্র্যাক্টিশনাররা একত্রিত হয়েছেন গবেষণা, অংশগ্রহণ এবং সংলাপভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া কাজগুলোতে হলোগ্রাফিক অ্যানিমেশন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), লাইভ স্ট্রিমিং এবং মাল্টিমিডিয়া ইনস্টলেশনের মতো বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের পরিচয়, আচরণ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে, এই শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে সেই প্রশ্নই ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, আধুনিক জীবন এখন ক্রমশ এমন সব অ্যালগরিদম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যা মানুষের যোগাযোগ, তথ্যের ব্যবহার এবং অনলাইন উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রাউজিং, লাইক, সাবস্ক্রাইব ও ফলো করার এই ডিজিটাল গোলকধাঁধায় সাধারণ মানুষ এখন কোডেড ডেটায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নজরদারি ও বাণিজ্যিকীকরণের শিকার হচ্ছে।

এই সমস্ত সংকটকে তুলে ধরে প্রদর্শনীতে শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছেন—যেখানে যান্ত্রিক গতির বিরুদ্ধে মানব শরীরের গতি থমকে দাঁড়ায়, অবিরাম স্ক্রলিং একসময় নিরর্থক মনে হয় এবং ব্যঙ্গ, রসবোধ বা অবাধ্যতার মাধ্যমে নিজের দৃশ্যমানতা প্রকাশ পায়।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (ডব্লিউ ও ডব্লিউ) বাংলাদেশ ২০২৬ প্রোগ্রামের সহায়তায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত। ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সম্পর্কিত