
তারা পরীক্ষা দেয়নি বলে আমরা অবাক। বরং অবাক হওয়া উচিত, এত বছর ধরে একই নাটক দেখে, একই প্রতিশ্রুতি শুনে, একই প্রশ্ন মুখস্থ করে, একই লাইনে দাঁড়িয়ে, একই হতাশার গল্প শুনেও এত মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, এইবার হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটবে! বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা আর নদী নয়, এটা মরীচিকা।

সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী। ভিডিও: তুহিন কান্তি দাস

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমান পরীক্ষাও।

বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি এসএসসি পরীক্ষা নেবেন। আর এইচএসচি পরীক্ষ নেবেন জুন মাসে। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। মন্ত্রী বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। প্রশ্ন উঠছে কী সেই পরিবর্তন? পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনলেই কি পরিবর্তন হবে?

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, এ পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

‘গো-কার্ট’ করে হইচই ফেলে দিয়েছেন রিজওয়ান রাশিদ রিওন। এইচএসসি পরীক্ষার পর ঘরে বসেই জমানো টাকায় তিনি তৈরি করে ফেলেন এই বিশেষ গাড়ি। তার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।

ঢাকা বোর্ডে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফলের জন্য আবেদন করেন ৮৯ হাজার ৬৭১ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২ হাজার ৩৩১ জনের ফল এবং গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২ হাজার ৩৭৩ জনের।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আর ২০২৩ সালে ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ জুন থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের নিয়ম এবারও অনুসরণ করা হচ্ছে।