
দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের ঋণ প্রদানের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) বা সমপরিমাণ ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অর্থমন্ত্রী “ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট” ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বরিশালের শীতল পাটির মতো দেশীয় পণ্যকে যদি সঠিক সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে তা জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত দুই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১.৫ শতাংশ এবং একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ৪.৭৫ শতাংশ। মঙ্গলবার বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর যে খাবার কেনা যেত ১০০ টাকায়, তা কিনতে এখন লাগছে প্রায় ১১০ টাকা। অর্থাৎ, উৎপাদন ও আয় কমলেও পেট ভরে খাওয়ার খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বেশ কিছু শর্তে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে আরও ১৫-৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির শিকার হওয়া জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্বল্পআয়ের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে ১৫০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ সহায়তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর ওপর।

চাকরি বা কর্মসংস্থান কেবল অর্থ উপার্জন বা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নয়, এটি মানুষকে সম্মানও এনে দেয়। ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছালেও এই সময়ে শ্রমবাজারে যুক্ত হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ নতুন চাকরি। তার মানে প্রায় অর্ধেক তরুণ এই সময়ে কর্মসংস্থান পায়নি

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনেকটাই থমকে গেছে। সেইসঙ্গে ক্রমাগত অর্থপাচার দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে- শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক খাত ছাড়া কি বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারবে?

গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এরপর কয়েক দফায় আফটার শকও অনুভূত হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর ভোরে আরেকটি হালকা ভূমিকম্পও হয়েছে। এগুলো ছিল সতর্ক সংকেত, কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় কি ঘটতে পারে সে বিষয়ে প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ।

প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শাহজাহানপুর থানায় মামলা করলে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ‘সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম’ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির সদস্য লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন কে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। পিপিআরসিও বলছে, ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা বলছে, বাজার এখনও নাগালের বাইরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন বিনিয়োগের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। দেশের অর্থনীতি খারাপ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। পিপিআরসিও বলছে, ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা বলছে, বাজার এখনও নাগালের বাইরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন বিনিয়োগের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। দেশের অর্থনীতি খারাপ।