
বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২৬০০–২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যেখানে চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট-এর বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে। আজ মঙ্গলবার এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস।

এলএনজি ব্যবস্থার বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ব্যয়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী আমদানি করা এলএনজির দাম দেশীয় গ্যাসের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩.৫-৪ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার জন্য বছরে প্রায় ২-৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয় বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার

এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টা ২৪ ঘণ্টা ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস স্বল্পচাপ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

ফের দুর্ঘটনায় দুর্ভোগে পড়েছেন তিতাস গ্যাসের ভোক্তারা। এবার উত্তরা টঙ্গী ব্রিজের কাছে শিল্প গ্রাহকের সার্ভিস লাইনের ভালভ ফেটে উচ্চচাপে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরার মূল পাইপলাইনে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুর রোডে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গ্যাস ভাল্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন ভাল্ভ প্রতিস্থাপন করেছে।

রাজধানীর মিরপুর রোডে তিতাস গ্যাসের বিতরণ পাইপের ভালভ ফেটে গেছে। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ খুব কম রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিলে উৎপাদন থেমে যায়। দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ ফিরে পেয়ে আবার চালু হয় কারখানাটি। উৎপাদন শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুত ফুরিয়ে আসছে। এক হিসাবে দেখা গেছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। একই হারে সার্বিক গ্যাস উৎপাদনও কমেছে। এ অবস্থায় গ্যাসের সংকট মেটাতে আমদানির ওপরই ভরসা রাখা হচ্ছে।