Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

আমাদের কাজ তাইজুলকে কেন করতে হচ্ছে?

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ২১: ৩৪
আমাদের কাজ তাইজুলকে কেন করতে হচ্ছে?

কুড়িগ্রামে নারায়ণপুরের তাইজুলকে নিয়ে হাসিতামাশা অনেক হয়েছে। অনেকে তাকে পাকিস্তানের সাংবাদিক চাঁদ নবাবের সঙ্গে তুলনা করছেন, ওই যে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ সিনেমায় যাকে অনুকরণ করেছিলেন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী। কিন্তু আমাদের তাইজুলের সঙ্গে করাচির চাঁদ নবাবের তুলনা চলে না। তুলনা করে তাইজুলের বক্তব্যকে আড়াল করা হয়ে যায়, তাকে হাসির পাত্র করে তোলা হয়। আসলে তাইজুল একজন হুইসেলব্লোয়ার।

Advertisement

হুইসেলব্লোয়ার কেন? তাইজুল কি চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিল না মূলধারার গণমাধ্যম প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঠিকঠাক কাজ করছে না? গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে জানি, আজকাল প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যাগুলো নিয়ে নিউজ প্রায় হয় না বললেই চলে। অনেক সময় খবর আসে, কিন্তু বড় কোনো ঘটনায় সেগুলো চাপা পড়ে যায়। রাস্তা নেই, সেতু নেই, বিদ্যুৎ নেই, স্কুল নেই, সুপেয় পানি নেই…। শহরের ভদ্রলোকরা এসব নিউজ আর খায় না। সুতরাং সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর কথা সেভাবে আর পৌঁছায় না দেশের কেন্দ্রে।

এখানেই তাইজুল একজন হুইসেলব্লোয়ার। তিনি নিজেকে কখনো সাংবাদিক দাবি করেননি। তিনি শুধু তার এলাকার সমস্যাগুলোর কথা সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি যখন দেখলেন, তার এলাকার বিবিধ সমস্যার কথা কেউ তুলে ধরছেন না, তখন তিনিই হাতে তুলে নিলেন মাইক ও মোবাইলফোন ক্যামেরা। পরিপাটি হয়ে ‘অসাংবাদিক’ ভাষায় সমস্যাগুলো সামনে নিয়ে আসতে থাকলেন। আমরা কী করলাম? তার চেষ্টা ও উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললাম, তার উপস্থাপনের ভুলত্রুটি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। একে বলে ‘রেড হেরিং ফ্যালাসি’-মূল ঘটনাকে দাবিয়ে ভিন্ন আলোচনা টেনে আনা।

তাইজুলের মিল বরং পাওয়া যায় রাশিয়ার কারাবাশ প্রাইমারি স্কুলের কর্মচারী পাভেল তালানকিনের সঙ্গে। তিনি স্কুলের হয়ে সবকিছুর ভিডিও ধারণ করতেন। সাংবাদিক ছিলেন না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে বসলে রাতারাতি তালানকিনের ভূমিকা বদলে যায়। স্কুলগুলোর ওপর সরকারি আদেশ নেমে আসে, স্কুলগুলো হয়ে ওঠে রুশ সরকারের আদর্শিক ফ্রন্টলাইন। তালানকিনকে বলা হয় স্কুলের সব ধরনের ঘটনা যেন গুরুত্বের সঙ্গে ভিডিও করা হয়। তিনি তা মনে না নিলেও, মেনে নিতে বাধ্য হন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের স্কুল পরিদর্শন এবং প্রোপাগান্ডামূলক পাঠদানের নানা চিত্র নথিভুক্ত করতে থাকেন তিনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ননসেন্সের দুনিয়ায় কমনসেন্সের সাংবাদিকতাjournalism_error

তালানকিন শাপকে বর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ধারণ করলেন, নিয়মিত পড়াশোনার বদলে বাইরের লোকজন এসে শিশুদের গ্রেনেড ছোড়ার কৌশল শেখাচ্ছে, স্কুল শিক্ষার্থীরা সরকারের সামরিক অভিযানের স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে পড়ছে, শিক্ষকরা যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্র নির্ধারিত রচনা মুখস্থ বলছেন, চাপিয়ে দেওয়া বয়ান শিশু ও শিক্ষকরা বিরক্তি নিয়ে শুনছেন, অন্যদিকে কিছু শিক্ষক অতি-উৎসাহী হয়ে সরকারের নিয়মগুলো মেনে চলছেন। এক সময় এই ভিডিও ফুটেজগুলো দেশের বাইরের সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হাতে পৌঁছায়।

এসবের সত্যতা যাচাই করে নির্মিত হয় ‘মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’ শিরোনামের একটি অনন্য তথ্যচিত্র, যা ২০২৬ সালে শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম বিভাগে অস্কার অর্জন করে। তথ্যচিত্রটি ডেভিড বোরেনস্টেইনের সঙ্গে সহ-পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তালানকিন। তালানকিনও কিন্তু যা দেখতেন, তাই ক্যামেরাবন্দী করতেন। তার কাজ নিয়েও হয়তো হাসাহাসি হতো। তবুও তিনি দমে যাননি। তার কাজ এখন ইতিহাসের অংশ, তাকে বলা হচ্ছে হুইসেলব্লোয়ার।

দেশের মানুষের যতটা বিরোধিতা তাইজুল পেয়েছেন, তালানকিন সম্ভবত ততটা পাননি। নেটদুনিয়ায় তাইজুলকে বর্ণবৈষম্য ও বডিশেমিংয়েরও শিকার হতে দেখলাম। আচ্ছা, এই বিরোধিতা কি নিছক আমাদের স্বভাবগত, নাকি এর পেছনে রাজনীতিও রয়েছে? তাইজুল তো পরোক্ষভাবে বলছেন, উন্নয়নের দিকে সরকারের নজর নেই এবং সরকারের ব্যর্থতা ধরিয়ে দিতে মূলধারার সাংবাদিকতা ব্যর্থ। আর এ জন্যই কি তাইজুল সহজ শিকারে পরিণত হয়েছেন?

আমরা কি ভুলে গেলাম? গত বেশ কয়েক বছর ধরে কিন্তু বড় বড় ঘটনার খবর আমাদের জানিয়েছেন এই তাইজুলরাই, যাকে আমরা ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বলি। তাইজুলদের সাংবাদিকতার মাপকাঠি দিয়ে পরিমাপ করলে কি হবে? তাকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলে কোনো লাভ আছে? নাকি সময় এসেছে নিজেদের প্রশ্ন করার? আমাদের কাজ তাইজুলকে কেন করতে হচ্ছে? আমরা কেন পারলাম না? সাংবাদিকতা নিয়ে কি আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে?

তথ্যসূত্র: জিআইজেএন, দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট (ইউকে), এপি নিউজ

বিষয়: বর্ণবৈষম্যসাংবাদিকতাসাংবাদিকরাজনীতিকুড়িগ্রাম
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই