Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

‘দেশ যেন ভালো থাকে, ঠিকানা–গণকটুলি যেন বৈষম্যের কারণ না হয়’

আব্দুস সবুর

আব্দুস সবুর

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৪৫
‘দেশ যেন ভালো থাকে, ঠিকানা–গণকটুলি যেন বৈষম্যের কারণ না হয়’

সজল (ছদ্মনাম), পেশায় ঝাড়ুদার। মা-বাবাও ঝাড়ুদারের কাজ করেন। পারিবারিক পরম্পরায় তিনিও একই কাজ করছেন। পাড়ায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝামেলা বা দ্বন্দ্ব এখনো হয়নি। তবে নির্বাচনে নির্দিষ্ট একটি দলের মার্কায় ভোট দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১০ আসনের আওতাভুক্ত হাজারিবাগ থানাধীন গণকটুলি সিটি কলোনি এলাকায় আলাপকালে হরিজন সম্প্রদায়ের এ যুবকসহ কলোনির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়।

রাজধানীর এই এলাকায় হরিজন সম্প্রদায়ের বসবাস। বিভিন্ন সময় নানা দল ক্ষমতায় এলেও তাদের ভাগ্যে বড় কোনো বদল হয়নি। কলোনির ভেতরের পরিবেশে তেমন বদল নেই। মাদকসহ নানা সংকট এখনো এই এলাকার বাসিন্দাদের মাথাব্যথার কারণ। রয়েছে বাসস্থানের সংকট। এখানকার শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ এখনো অধরাই রয়ে গেছে। আসন্ন নির্বাচনেও প্রার্থীদের কাছে এ সংকটগুলোর মীমাংসাই প্রত্যাশা করছেন এলাকাটির বাসিন্দারা।

অধিকাংশ বাসিন্দা জানান, এলাকায় হিন্দু-মুসলমান এক সঙ্গে বসবাস করছে দীর্ঘদিন। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সেভাবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

হাজারিবাগ থানার গণকটুলি সিটি কলোনিতে প্রায় ১ হাজার হরিজন পরিবারের বাস। এর মধ্যে অর্ধেকর কমসংখ্যক পরিবার হিন্দু ধর্মালম্বী। এই হিসাবে হাজারের বেশি হিন্দুধর্মালম্বী হরিজন মানুষ বসবাস করেন।

কলোনির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক- স্থায়ী বাসিন্দা আলাউদ্দিন। ছবি: চরচা
কলোনির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক- স্থায়ী বাসিন্দা আলাউদ্দিন। ছবি: চরচা

এই কলোনিতে ডোমার, বাল্মীকি, ডোম ও রবিদাস–এই চার সম্প্রদায়ের দলিতের বসবাস। তবে ডোমার বা সুইপারদের মধ্যে শিক্ষিতের হার কিছুটা বেশি। শিক্ষার হার বাড়ায় এরা পূর্বপুরুষের পেশায় থাকতে চান না। অন্য চাকরি পেলে অনেকে গণকটুলির পরিচয় মুছতে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কারণ, কলোনির পরিচয়ের কারণে অনেকে চাকরি বঞ্চিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ হিসেবে এক কক্ষে এক পরিবার বাস করতে হয়। ফলে নাগরিক সংকট ব্যাপক মাত্রায়। নানা দল নানা সময়ে ক্ষমতায় এলেও এর কোনো মীমাংসা হয়নি। এখানকার ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটার হিসেবে পরিচিত। এ কারণে বর্তমানে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের তরফ থেকে এক ধরনের চাপ রয়েছে বলে জানান কয়েকজন।

সজল (ছদ্মনাম) বলেন, ‘‘হরিজন হিন্দুরা সবাই নৌকার লোক। এবার নির্বাচনী আমেজ শুরুর পর থেকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতেছে।”

মূলত ভোট দিতে যাওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। কী হতে পারে–তা নিয়ে কোনো ধারণা অবশ্য নেই তার। বললেন, “এলাকায় নিজেদের মধ্যে ভোট নিয়ে এখনো কোনো ঝামেলা নাই। সামনেও কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে ভোট দিতে না গেলে বা ভোটের পরে কিছু হলে হতে পারে।’’

হরিজন সম্প্রদায়ের এই যুবক বলেন, ‘‘এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক। এখানে গাঁজা থেকে শুরু করে সবকিছু পাওয়া যায়। দিনের বেলায়ও সবকিছু পাওয়া যায়। এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝামেলা হয় কিছুটা।’’

শান্তি রাণী দাস বলেন, ‘‘আমি ঢাকা মেডিকেলে ঝাড়ুদারের চাকরিই করতাম। আমার ছামী (স্বামী) পারমেনভাবে (স্থায়ী) চাকরি করত। যখন করোনা আইচে (করোনার সময়), তখন থিকা আমারে বাইর কইরা দিছে। কত কষ্ট করে খাবার খাচ্ছি, সেটা আমি আর ভগবান জানেন।”

মেয়ে শিক্ষার্থী পড়িয়ে যা পায়, তা দিয়েই সংসার চলছে বলে জানান শান্তি। বলেন, “আমার মেয়ে আছে একটা। সে টিশুনি করে (শিক্ষার্থী পড়িয়ে) যা হয়, তাই দিয়ে আমরা খাই। শুকা ভাত, তেল ভাত খাই; কিন্তু কাউকে কইতে যাই না। মেয়ে কলেজ পর্যন্ত পড়ছে। পরে টাকা না থাকায় আর পড়ানু (পড়ানো) যায়নি। যেই আসুক, সেই ভালা করে দেশ চালাক। দেশ ছিন্নভিন্ন থাকলে কিচ্ছু ভালা থাকে না।”

আলাউদ্দিন নামের একজন বলেন, “আমার জন্ম এখানে। আমি সিটি করপোরেশনের কেরানি হিসেবে চাকরি করি। আমাদের সমস্যা নিয়ে যেই কাজ করবে, তারেই আমরা ভোট দিব। আমরা এখানে কাইজ্যা-ঝগড়া ছাড়াই থাকি। এখানে অনেকে মাদক বিক্রি করে। তারা তাদের নেতাদের পাওয়ার দেখায়। এটায় আমাগো হয়রানি হতে হয়। এসব বন্ধ করলেই ভোট দিব।”

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না রার শর্তে বলেন, ‘‘ম্যালাদিন পর দ্যাশে সুষ্ঠু ভোট হবে–এটাই চাই। আমাদের গণতান্ত্রিক চাওয়া-পাওয়া যেন পূরণ হয়। এই এলাকায় সবাই আমরা মিলেমিশে থাকি।’’

বিনয় চন্দ্র দাসের চাওয়া দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ। তার সোজাসাপটা চাওয়া–“নতুন সব সিদ্ধান্ত যাতে মানুষের কল্যাণে হয়। এখানে স্থায়ী বাসস্থান ও কাজের সংকট নিরসন হলে খুশি হব।’’

দুলারী রাণী দাসের জন্ম নারায়ণগঞ্জে। বিয়ের পর থেকে এই কলোনিতে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “সবাই যাতে ভালা থাকে, এটাই চাই। আর কিচ্ছু চাই না। হিন্দুদের ওপর যাতে অত্যাচার না হয়, এটাই চাই। কোনো ভয়টয় নাই পাড়ার মধ্যে।”

কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় জন্ম হলেও এই কলোনিতে থাকেন উত্তম কর্মকার বলেন, “পৃথিবীজুড়েই টাকা-পয়সার মন্দাভাব চলছে। তাই হাতের কাজ কম। ভবিষ্যতে যাতে হাতের কাজ ভালো হয়, এটাই চাই।”

বিদ্যুৎ দাস নামের আরেকজন বলেন, ‘‘আমরা এমনিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। আমরা যেন আর পেছনে পড়ে না থাকি, সেটার জন্যর প্রতিশ্রুতি চাই। সংখ্যালঘু হিসেবে আমাদের জানমালের নিরাপত্তা যে দেবে, তারেই ভোট দেব। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকার ও চাহিদা যা যা, সবকিছুই চাই।”

গণকটুলির দীর্ঘদিনের সংকটের কথা উঠে এল বিদ্যুৎ দাসের কথায়। বললেন, ‘‘থাকার বাসস্থানের অসুবিধা আছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করলেও ভালো চাকরি পায় না।”

সব মিলিয়ে গণকটুলির বাসিন্দারা একটা মাদকমুক্ত সমাজ চান, যেখানে তাদের বাসস্থানের সংকট এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকবে। তারা চান, তাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা করে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান। ঠিকানা–গণকটুলি যেন এ ক্ষেত্রে সংকট না হয়।

বিষয়: দুর্নীতিবাংলাদেশরাজধানীগণপিটুনিজাতীয় নির্বাচনবৈষম্যত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোট
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৮৫ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলার সেরা প্রধান শিক্ষক। যে প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তিনি ৯৫ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করা

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, কিংবা এই যে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যুদ্ধের যে সরঞ্জাম–এই সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু এক। আর তা হলো সেমিকন্ডাক্টর, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল জ্বালানি’। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, জাপানের মতো

  • সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে থাকা ছোট্ট ব্যান্ডরোল শুধু একটি কাগজের ফিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের হিসাব। কোন দামের সিগারেট, কত শলাকা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের বিপরীতে কত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হওয়ার কথা, তা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ব্যান্ডরোল ব্যবস্থা।

  • ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    কওমিপন্থী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ৭ ইসলামী রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই জোটের বাইরে অন্য কোনো জোটে থাকা যাবে না–এই শর্তে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সব দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এর বাইরেও আরো কয়েকটি শর্ত নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনও