Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

পারস্যের শক্তি: ইরানে কেন বহিরাগত শাসন টেকেনি

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৫: ২৯
পারস্যের শক্তি: ইরানে কেন বহিরাগত শাসন টেকেনি

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী সভ্যতার দেশ হলো ইরান। ইতিহাসে দীর্ঘদিন পার্সিয়ান নামে পরিচিত ছিল। হাজার বছরের ইতিহাসে এই অঞ্চল বহু সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাক্ষী। বিভিন্ন সময়ে বিদেশি শক্তি পারস্যকে আক্রমণ করেছে, কখনো শাসনও করেছে। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, পারস্যের জাতীয় পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্য কখনো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এ কারণেই ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ীভাবে দখল করে রাখা অন্য শক্তির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

Advertisement

এখন প্রশ্ন হলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো চাইলেই কি ইরান দখল করে নিতে পারবে বা তাদের শাসন করতে পারব। আজকের লেখায় তা আলোকপাত করার চেষ্টা করব। এই প্রবন্ধে ইরানের ইতিহাসের প্রধান পর্যায়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হবে কেন দেশটি বারবার বিদেশি আক্রমণের মুখে পড়লেও তার স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা খ্রিষ্টর্পুব থেকে এখন অবধি টিকে আছে।

প্রাচীন পারস্যের উত্থান

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পারস্যের ইতিহাসের প্রকৃত উত্থান শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে, যখন শাসক সাইরাস দ্য গ্রেট প্রতিষ্ঠা করেন আকেমেনীয় সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম বৃহৎ বহুজাতিক সাম্রাজ্যগুলোর একটি। এর সীমানা বিস্তৃত ছিল মিসর থেকে ভারত উপমহাদেশ পর্যন্ত। এই সাম্রাজ্যের বিশেষত্ব ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। সাম্রাজ্যের ভেতরে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও কেন্দ্র থেকে কার্যকর প্রশাসন পরিচালিত হতো। রাজপথ, ডাকব্যবস্থা এবং প্রাদেশিক প্রশাসনের মাধ্যমে বিশাল ভূখণ্ড পরিচালনা করা হতো। এই শক্তিশালী ভিত্তিই পারস্যকে দীর্ঘকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

আলেকজান্ডারের আক্রমণ

খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০ সালে মেসিডোনিয়ার বিখ্যাত বিজেতা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পারস্য আক্রমণ করেন। এর মাধ্যমে ঘটে আকেমেনীয় সাম্রাজ্যে গ্রিক শাসন। আলেকজান্ডার পারস্য জয় করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুললেও তার মৃত্যুর (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩) পর সেই সাম্রাজ্য দ্রুত ভেঙে যায়। তার সেনাপতিদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং পারস্য অঞ্চলে স্থায়ী গ্রিক শাসন টিকে থাকতে পারেনি। পরবর্তীতে পারস্যে আবার স্থানীয় শক্তির উত্থান ঘটে। এই ঘটনা ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে—বিজয় সম্ভব হলেও পারস্যকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

পার্থিয়ান ও সাসানীয় শক্তির পুনরুত্থান

গ্রিক শাসনের পতনের পর পারস্যে গড়ে ওঠে পার্থিয়ান সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে টিকে ছিল এবং রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছে। এরপর তৃতীয় শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় সাসানীয় সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্য পারস্য সভ্যতাকে আবার শক্তিশালী করে তোলে। শিল্প, স্থাপত্য, প্রশাসন এবং সামরিক শক্তির দিক থেকে এটি ছিল অত্যন্ত উন্নত।

সাসানীয় যুগে পারস্য আবার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয় এবং রোমান ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

আরব মুসলিম বিজয়

সপ্তম শতকে ইসলামের উত্থানের পর আরব মুসলিম বাহিনী পারস্য আক্রমণ করে। এই সংঘর্ষের ফল ছিল মুসলমানদের পারস্য জয়। এর ফলে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং পারস্য ইসলামি বিশ্বের অংশ হয়ে যায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়। আরব শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও পারস্যের ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়নি। বরং পার্সিয়ান ভাষা ইসলামি সভ্যতার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ভাষায় পরিণত হয়। ইসলামি যুগে পারস্যের পণ্ডিত, কবি ও বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উদাহরণ হিসেবে ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসি ও আভিসেনার নাম উল্লেখ করা যায়।

মঙ্গোল আক্রমণ

১৩শ শতকে মধ্য এশিয়া থেকে আসে আরেকটি শক্তিশালী আক্রমণকারী শক্তি—মঙ্গোলরা। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান এবং তার উত্তরসূরিরা পারস্যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে তার নাতি হালাকু খান প্রতিষ্ঠা করেন ইলখানাত। প্রথম দিকে এই শাসন ছিল অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মঙ্গোল শাসকেরা পারস্য সংস্কৃতির সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে পারস্যের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা আবারও টিকে থাকে।

সাফাভিদ সাম্রাজ্যের উত্থান

১৬শ শতকে পারস্যে আবার একটি শক্তিশালী স্থানীয় সাফাভিদ সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শাহ ইসমাইল ১। এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে আধুনিক ইরানের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে। সাফাভিদ যুগে শিল্প, স্থাপত্য এবং বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়।

আধুনিক যুগে বিদেশি প্রভাব

১৯ ও ২০ শতকে ইরানকে সরাসরি উপনিবেশ বানানো সম্ভব না হলেও বিদেশি শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্য ইরানের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। তবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ইরান ধীরে ধীরে নিজের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৯ সালে ঘটে ইসলামিক বিপ্লব। এর মাধ্যমে আধুনিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

লেখক
লেখক

কেন ইরানকে স্থায়ীভাবে শাসন করা কঠিন

ইরানকে স্থায়ীভাবে শাসন করা কেন কঠিন—এ বিষয়টি বোঝার জন্য ইতিহাসের দীর্ঘ ধারাটি দেখতে হয়। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন শক্তিশালী সাম্রাজ্য ইরান দখল করেছে, কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই তারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের সংস্কৃতি বা শাসন পুরোপুরি চাপিয়ে দিতে পেরেছে। যেমন—আকেমেনীয়, গ্রিক, পার্থিয়ান, সাসানীয় ও পরে আরব খিলাফত এবং অনেক পরে মঙ্গোল—সবাই কোনো না কোনো সময়ে পারস্য অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারস্যের নিজস্ব সাংস্কৃতিক শক্তি ও সামাজিক কাঠামো টিকে গেছে।

বিষয়টি একটু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

১. শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়

ইরানের মানুষ হাজার বছরের পুরোনো একটি সভ্যতার উত্তরাধিকার বহন করে। পার্সিয়ান ভাষা (ফার্সি), সাহিত্য, দর্শন, শিল্প এবং ইতিহাস তাদের জাতীয় পরিচয়কে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। বিশ্বখ্যাত কবি ফেরদৌসি তার মহাকাব্য শাহনামার মাধ্যমে পারস্যের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা সংরক্ষণ করেন। এই বই শুধু সাহিত্য নয়, বরং পারস্যের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আরব বিজয়ের পরেও ফার্সি ভাষা বিলীন হয়নি; বরং সাহিত্য ও প্রশাসনে পুনরায় শক্তভাবে ফিরে আসে। এই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় বিদেশি শক্তির জন্য জনগণকে দীর্ঘদিন দমন করে রাখা কঠিন করে তোলে।

২. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা

ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানও তার স্বাধীনতার অন্যতম শক্তি। দেশটির বড় অংশ পাহাড়ি অঞ্চল—বিশেষ করে Zagros Mountains এবং Alborz Mountains। এসব পাহাড়ি অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে আক্রমণকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, বিশাল মরুভূমি যেমন Dasht-e Kavir এবং Dasht-e Lut অঞ্চলকে আরও কঠিন করে তোলে। ফলে কোনো বিদেশি শক্তি যদি রাজধানী দখলও করে, পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।

৩. দীর্ঘ রাষ্ট্র পরিচালনার ঐতিহ্য

ইরানে প্রাচীনকাল থেকেই উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল। সাইরাস দ্য গ্রেট প্রতিষ্ঠিত আকেমেনীয় সাম্রাজ্য ছিল বিশ্বের প্রথম দিকের বৃহৎ প্রশাসনিক সাম্রাজ্যগুলোর একটি। তারা প্রদেশভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা, কর আদায়, সড়ক যোগাযোগ এবং ডাকব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। পরে এই প্রশাসনিক কাঠামো আরও উন্নত হয়। এই দীর্ঘ প্রশাসনিক ঐতিহ্য ইরানের সমাজকে সংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলেছে।

৪. সাংস্কৃতিক অভিযোজন ক্ষমতা

পারস্যের আরেকটি বড় শক্তি হলো তাদের সাংস্কৃতিক অভিযোজন ক্ষমতা। ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক বিদেশি বিজেতা শেষ পর্যন্ত পারস্য সংস্কৃতির প্রভাবেই বদলে গেছে। আরবরা যখন পারস্য জয় করে, তখন ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু প্রশাসন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পারস্যের প্রভাব বজায় থাকে। একইভাবে মঙ্গোল বিজয়ের পরও মঙ্গোল শাসকেরা ধীরে ধীরে পারস্য সংস্কৃতি গ্রহণ করে। উদাহরণ হিসেবে হালাকু খানের প্রতিষ্ঠিত ইলখানাত সাম্রাজ্যে পারস্য সংস্কৃতির শক্ত প্রভাব দেখা যায়।

৫. ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্য

ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মীয় ঐক্য। বিশেষ করে সাফাভিদ সাম্রাজ্যের সময়ে শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ফলে ইরানের মানুষের মধ্যে একটি আলাদা ধর্মীয় পরিচয় তৈরি হয়, যা প্রতিবেশী অনেক দেশের থেকে তাদের আলাদা করে। এই ধর্মীয় পরিচয়ও জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের শক্তি বাড়িয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ইরানকে স্থায়ীভাবে শাসন করা কঠিন হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে—শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয়, কঠিন ও বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিবেশ, দীর্ঘ প্রশাসনিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অভিযোজন ক্ষমতা এবং একটি সুদৃঢ় ধর্মীয়-সামাজিক ঐক্য। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখায়, বহু শক্তিশালী সাম্রাজ্য ইরান দখল করলেও তারা শেষ পর্যন্ত পারস্যের গভীর সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারেনি। এই দিক থেকে ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়; বরং হাজার বছরের এক অবিচ্ছিন্ন সভ্যতার ধারাবাহিকতা।

ইতিহাসে পারস্য বহুবার বিদেশি আক্রমণের মুখে পড়েছে—গ্রিক, আরব, মঙ্গোলসহ নানা শক্তি এখানে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবুও তারা কেউই পারস্যের সভ্যতাকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করতে পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিদেশি শাসকেরাই শেষ পর্যন্ত পারস্য সংস্কৃতি, প্রশাসনিক রীতি ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবারও ইরানকে ঘিরে নানা ধরনের কৌশলগত আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরানকে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্বেগ প্রকাশিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি কোনোভাবে ইরানের ওপর বাইরের শক্তির প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?

এর উত্তর নিশ্চিতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয়, ইরানের মতো গভীর ঐতিহ্য, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জটিল ভৌগোলিক বাস্তবতা সম্পন্ন একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। তাই ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময়ই বলে দেবে; কিন্তু ইতিহাসের আলোকে বলা যায়, পারস্যের মতো একটি সভ্যতাকে স্থায়ীভাবে দমিয়ে রাখা অতীতেও কঠিন ছিল, ভবিষ্যতেও তা সহজ হবে না।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

শাহাবুদ্দিন শুভ: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক।

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: মুক্ত আলোচনাইরানপারস্যমুক্ত মত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পদোন্নতি পাটওয়ারী ও হাসনাতের

  • ২

    ‘রহস্য স্পিনারের’ অ্যাকশন নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে

  • ৩

    অপ্রতীম হত্যা: দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

  • ৪

    ‘১৫৬ পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে ৮০টাই কাজ করছে না’

  • ৫

    ইলিয়াস কাঞ্চন কেন নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলেন?

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।