চরচা প্রতিবেদক

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। তবে কবে তিনি দেশে ফিরবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু এখনো জানা যায়নি। দলীয় ও পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানসিকভাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা ‘অনেকটা স্বস্তিতে’ আছেন।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে শাহজাহানপুরের বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দেশের নিউরো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্তে দ্রুত মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরে ১৫ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে বোর্ডের সিদ্ধান্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
এই হাসপাতালটিকে ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। কারণ, এর আগে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। যিনি মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী আসনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ায়।
সেই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতকে টানছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্যও দেখা গেছে যে, ‘ভাগ্যের পরিহাসে’ একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস। কেউ কেউ তার সুস্থতা কামনা করলেও, কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা গেছে।
এদিকে, দলীয় ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, শারীরিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও এক ধরনের স্বস্তির সময় পার করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সরাসরি নাম না নিলেও তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গেকে টেনেছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশজুড়ে আলোচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা নিয়েও দলীয় নেতা-কর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
দলীয় নেতারা বলছেন, দেশের বাইরে থাকাটা মির্জা আব্বাসের জন্য কেবল চিকিৎসাগত প্রয়োজন নয়, এটি তাকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে খানিকটা দূরে থাকার সুযোগও দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, “রাজনীতিতে শিষ্টাচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের অনেক বিরোধীপক্ষ থাকবে, শিষ্টাচার মেনে সেই বিরোধিতা জরুরি। যা নির্বাচনকালীন অনেকেই, বিশেষ করে একজন ভুলে গিয়েছিলেন। একরকম বুলি করেছেন প্রতিনিয়ত।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মির্জা আব্বাসের পরিবারের একজন সদস্য চরচাকে বলেন, “আমরা তো দেখেছি, সেসময় তিনি কীভাবে স্ট্রেসের মধ্যে ছিলেন। এগুলা উনাকে এফেক্ট করেছে। অন্তত আলহামদুলিল্লাহ, বিদেশে এসে সেসব ডার্টি ব্যুলিংয়ের শিকার তিনি হচ্ছেন না। ইটস কোয়ায়েট ভিজিবল যে, তিনি এখন মেন্টালি বেশ স্ট্যাবল আছেন। স্বস্তিতে আছেন।”
‘পজেটিভ সাইন’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন চরচাকে বলেন, “আমি নিয়মিত চিকিৎসকদের থেকে উনার আপডেট নিই। তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো পজিটিভ সাইন দিচ্ছে। বলা যায় যে, উনার অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে।”
দেশে কবে ফিরতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ব্রেইনের বিষয় তো, তাই একটু সময় লাগবে।”
মির্জা আব্বাসের শারীরিক উন্নতির বিষয়ে আরও স্পষ্ট করে জানান সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী তার একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। চরচাকে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ তিনি এখন অনেকটা সুস্থ আছেন। প্রতিদিন থেরাপিও দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে বেডের মধ্যেই তিনি উঠে বসেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উনাকে বেড থেকে চেয়ার বসিয়েছেন চিকিৎসকরা। টুকটাক কথা বলতে পারেন। এটা পজিটিভ সাইন।”
হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস সবসময় রয়েছেন বলে জানান সোহেল।
বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর সফররত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সস্ত্রীক বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা আব্বাসকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানান সোহেল।
কয়েকদিন আগে নজরুল ইসলাম খানও মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনিও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সেখানে রয়েছেন।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। তবে কবে তিনি দেশে ফিরবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু এখনো জানা যায়নি। দলীয় ও পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানসিকভাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা ‘অনেকটা স্বস্তিতে’ আছেন।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে শাহজাহানপুরের বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দেশের নিউরো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্তে দ্রুত মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরে ১৫ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে বোর্ডের সিদ্ধান্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
এই হাসপাতালটিকে ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। কারণ, এর আগে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। যিনি মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী আসনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ায়।
সেই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতকে টানছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্যও দেখা গেছে যে, ‘ভাগ্যের পরিহাসে’ একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস। কেউ কেউ তার সুস্থতা কামনা করলেও, কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা গেছে।
এদিকে, দলীয় ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, শারীরিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও এক ধরনের স্বস্তির সময় পার করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সরাসরি নাম না নিলেও তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গেকে টেনেছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশজুড়ে আলোচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা নিয়েও দলীয় নেতা-কর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
দলীয় নেতারা বলছেন, দেশের বাইরে থাকাটা মির্জা আব্বাসের জন্য কেবল চিকিৎসাগত প্রয়োজন নয়, এটি তাকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে খানিকটা দূরে থাকার সুযোগও দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, “রাজনীতিতে শিষ্টাচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের অনেক বিরোধীপক্ষ থাকবে, শিষ্টাচার মেনে সেই বিরোধিতা জরুরি। যা নির্বাচনকালীন অনেকেই, বিশেষ করে একজন ভুলে গিয়েছিলেন। একরকম বুলি করেছেন প্রতিনিয়ত।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মির্জা আব্বাসের পরিবারের একজন সদস্য চরচাকে বলেন, “আমরা তো দেখেছি, সেসময় তিনি কীভাবে স্ট্রেসের মধ্যে ছিলেন। এগুলা উনাকে এফেক্ট করেছে। অন্তত আলহামদুলিল্লাহ, বিদেশে এসে সেসব ডার্টি ব্যুলিংয়ের শিকার তিনি হচ্ছেন না। ইটস কোয়ায়েট ভিজিবল যে, তিনি এখন মেন্টালি বেশ স্ট্যাবল আছেন। স্বস্তিতে আছেন।”
‘পজেটিভ সাইন’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন চরচাকে বলেন, “আমি নিয়মিত চিকিৎসকদের থেকে উনার আপডেট নিই। তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো পজিটিভ সাইন দিচ্ছে। বলা যায় যে, উনার অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে।”
দেশে কবে ফিরতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ব্রেইনের বিষয় তো, তাই একটু সময় লাগবে।”
মির্জা আব্বাসের শারীরিক উন্নতির বিষয়ে আরও স্পষ্ট করে জানান সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী তার একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। চরচাকে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ তিনি এখন অনেকটা সুস্থ আছেন। প্রতিদিন থেরাপিও দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে বেডের মধ্যেই তিনি উঠে বসেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উনাকে বেড থেকে চেয়ার বসিয়েছেন চিকিৎসকরা। টুকটাক কথা বলতে পারেন। এটা পজিটিভ সাইন।”
হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস সবসময় রয়েছেন বলে জানান সোহেল।
বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর সফররত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সস্ত্রীক বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা আব্বাসকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানান সোহেল।
কয়েকদিন আগে নজরুল ইসলাম খানও মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনিও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সেখানে রয়েছেন।