চরচা ডেস্ক

১৯২২ সালের আজকের এই দিনে মানবশরীরে প্রথম ইনসুলিনের সফল প্রয়োগ হয়েছিল। আজ থেকে ১০৪ বছর আগের সেই ১১ জানুয়ারি লিওনার্দো থমসন নামের ১৪ বছর বয়সী এক বালকের শরীরে প্রথম এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লিওনার্দো ছিল ভীষণভাবে অসুস্থ। তার শরীরে প্রয়োগের পর ক্রমে সে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বিস্ময়কর এই ওষুধের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বনে যায় রীতিমতো।
ডায়াবেটিস সে সময় ছিল অনেকটাই মারণব্যাধীর মতো। শনাক্ত হলেই সেই পুরোনো কথার মতো ‘ডাক্তার জবাব দিয়ে দিত’। ফলে ইনসুলিনের আবিষ্কার এক দারুণ যাত্রার সূচনা করে।
হিস্টোরি ডটকম বলছে, বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা হিসেবে ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে ৩০০০ বছরের বেশি সময় আগে। কিন্তু সত্যিকারের কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিশ শতকের শুরুর দিকে এর কারণ খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এক বিরাট ধাঁধাই ছিল এটি।
ইনসুলিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সেও যেনতেন নয়, একেবারে শর্করা, চিনি, চর্বি ও আমিষ বর্জন। আর এ বর্জনের পর কারও পক্ষে সে সময় এক বছরের বেশি সময় টিকে থাকা ছিল ভীষণ কঠিন। অর্থাৎ, ডায়াবেটিস হওয়াটা ছিল সে সময় অনেকটা মৃত্যুর ক্ষণ গুনতে বাধ্য হওয়ার শামিল।
এখানেই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর কানাডিয়ানস ফ্রেডেরিখ ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট। তারাই প্রথম ইনসুলিনকে প্রাণীর শরীর থেকে ইনসুলিন নামের হরমোনকে আলাদা করতে সক্ষম হন। পরে কুকুরের শরীরে প্রয়োগ করে সাফল্য পান। সেটা ১৯২১ সালের কথা।
১৯২২ সালের ১১ জানুয়ারি আসে সেই ক্ষণ, যখন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জে জে আর ম্যাকলয়েডের সহায়তায় মানব শরীরে ইনসুলিন প্রয়োগ করা হয়। আর প্রথম স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে হাজির হয় সেই লিওনার্দো নামের ১৪ বছরের বালক, যে ছিল ভীষণভাবে অসুস্থ। কসাইখানা থেকে গবাদি পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে তুলনায় বিশুদ্ধ ইনসুলিন সংগ্রহ করা হয় এ কাজে প্রয়োগের জন্য। এ ক্ষেত্রে ব্যান্টিং ও বেস্টকে সহায়তা করেন অণুজীববিজ্ঞানী জে বি কলিপ।
কিন্তু লিওনার্দো শুরুতে সুস্থতার দিকে যেতে থাকলেও কিছু পরে অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। পরে ইনসুলিনকে আরও বিশুদ্ধ করে ফের তার শরীরে প্রয়োগ করলে লিওনার্দো ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে। আর এর মধ্য দিয়েই লিওনার্দো হয়ে ওঠে যুগান্তকারী এই ওষুধের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
এর ঠিক এক বছর পর ১৯২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ব্যান্টিং, বেস্ট ও কলিপ যুক্তরাষ্ট্রে ইনসুলিনের পেটেন্ট পান। পরে এই তিন বিজ্ঞানী এই পেটেন্ট ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর কাছে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি করেন এই শর্তে যে, এই ওষুধের বিপুল উৎপাদন হতে হবে, যাতে যেকোনো আক্রান্ত ব্যক্তি এটির নাগাল পায়। বিশ্ববিদ্যালয়টিও বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির কাছে এর ফর্মোলা বিনা রয়্যালিটিতে দিয়ে দেয়। ওই বছরই ইনসুলিন আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান ব্যান্টিং ও ম্যাকলয়েড।

১৯২২ সালের আজকের এই দিনে মানবশরীরে প্রথম ইনসুলিনের সফল প্রয়োগ হয়েছিল। আজ থেকে ১০৪ বছর আগের সেই ১১ জানুয়ারি লিওনার্দো থমসন নামের ১৪ বছর বয়সী এক বালকের শরীরে প্রথম এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লিওনার্দো ছিল ভীষণভাবে অসুস্থ। তার শরীরে প্রয়োগের পর ক্রমে সে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বিস্ময়কর এই ওষুধের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বনে যায় রীতিমতো।
ডায়াবেটিস সে সময় ছিল অনেকটাই মারণব্যাধীর মতো। শনাক্ত হলেই সেই পুরোনো কথার মতো ‘ডাক্তার জবাব দিয়ে দিত’। ফলে ইনসুলিনের আবিষ্কার এক দারুণ যাত্রার সূচনা করে।
হিস্টোরি ডটকম বলছে, বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা হিসেবে ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে ৩০০০ বছরের বেশি সময় আগে। কিন্তু সত্যিকারের কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিশ শতকের শুরুর দিকে এর কারণ খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এক বিরাট ধাঁধাই ছিল এটি।
ইনসুলিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সেও যেনতেন নয়, একেবারে শর্করা, চিনি, চর্বি ও আমিষ বর্জন। আর এ বর্জনের পর কারও পক্ষে সে সময় এক বছরের বেশি সময় টিকে থাকা ছিল ভীষণ কঠিন। অর্থাৎ, ডায়াবেটিস হওয়াটা ছিল সে সময় অনেকটা মৃত্যুর ক্ষণ গুনতে বাধ্য হওয়ার শামিল।
এখানেই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর কানাডিয়ানস ফ্রেডেরিখ ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট। তারাই প্রথম ইনসুলিনকে প্রাণীর শরীর থেকে ইনসুলিন নামের হরমোনকে আলাদা করতে সক্ষম হন। পরে কুকুরের শরীরে প্রয়োগ করে সাফল্য পান। সেটা ১৯২১ সালের কথা।
১৯২২ সালের ১১ জানুয়ারি আসে সেই ক্ষণ, যখন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জে জে আর ম্যাকলয়েডের সহায়তায় মানব শরীরে ইনসুলিন প্রয়োগ করা হয়। আর প্রথম স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে হাজির হয় সেই লিওনার্দো নামের ১৪ বছরের বালক, যে ছিল ভীষণভাবে অসুস্থ। কসাইখানা থেকে গবাদি পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে তুলনায় বিশুদ্ধ ইনসুলিন সংগ্রহ করা হয় এ কাজে প্রয়োগের জন্য। এ ক্ষেত্রে ব্যান্টিং ও বেস্টকে সহায়তা করেন অণুজীববিজ্ঞানী জে বি কলিপ।
কিন্তু লিওনার্দো শুরুতে সুস্থতার দিকে যেতে থাকলেও কিছু পরে অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। পরে ইনসুলিনকে আরও বিশুদ্ধ করে ফের তার শরীরে প্রয়োগ করলে লিওনার্দো ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে। আর এর মধ্য দিয়েই লিওনার্দো হয়ে ওঠে যুগান্তকারী এই ওষুধের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
এর ঠিক এক বছর পর ১৯২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ব্যান্টিং, বেস্ট ও কলিপ যুক্তরাষ্ট্রে ইনসুলিনের পেটেন্ট পান। পরে এই তিন বিজ্ঞানী এই পেটেন্ট ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর কাছে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি করেন এই শর্তে যে, এই ওষুধের বিপুল উৎপাদন হতে হবে, যাতে যেকোনো আক্রান্ত ব্যক্তি এটির নাগাল পায়। বিশ্ববিদ্যালয়টিও বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির কাছে এর ফর্মোলা বিনা রয়্যালিটিতে দিয়ে দেয়। ওই বছরই ইনসুলিন আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান ব্যান্টিং ও ম্যাকলয়েড।