‘পারিবারিক কলহ’, ফাঁস দিয়ে নারী পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘পারিবারিক কলহ’, ফাঁস দিয়ে নারী পুলিশ সদস্যের মৃত্যু
আত্মহত্যার প্রতীকী ছবি

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে এক নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণখান থানাধীন মোল্লারটেক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রাজিয়া সুলতানা বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টারে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে রাজিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাজীব মিয়া (স্বামী) তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ জানান, রাজিয়া দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী রাজীব মিয়া একজন পুলিশ কনস্টেবল, যিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে নিয়ন্ত্রণে কর্মরত। রাজীব মিয়ার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায়।

এসআই পলাশ আহমেদ আরও জানান, রাজিয়ার স্বামীর দাবি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাজিয়া তার ব্যবহৃত আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ভেঙে ফেলেন। এর আগেও তিনি একটি ভিভো মোবাইল ফোন ভেঙেছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দেন।

অন্যদিকে, রাজীব মিয়ার বন্ধু ও সহকর্মী শামীম আল মাহীন জানান, পুলিশে যোগদানের প্রশিক্ষণকালেই রাজীব ও রাজিয়ার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে ১৯ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

কর্মস্থলের কারণে রাজিয়া ঢাকায় দক্ষিণখানে থাকতেন এবং রাজীব ভাঙ্গায় দায়িত্ব পালন করলেও প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় আসতেন বলে জানান শামীম আল মাহীন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত