Advertisement Banner

ক্রিকেট ও রাজনীতি কি একই সঙ্গে চালিয়ে যাবেন সাকিব?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ক্রিকেট ও রাজনীতি কি একই সঙ্গে চালিয়ে যাবেন সাকিব?
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের পর আচমকাই প্রেক্ষাপটে হাজির হন সাকিব। ছবি: রয়টার্স

রাখঢাক না করে কথা বলার জন্য সাকিব আল হাসান বরাবরই পরিচিত। এই যেমন সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের হয়ে আবার খেলার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হওয়ার আশা রয়েছে তার। বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ক্রিকেট না রাজনীতি, তা খোলাসা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। সেখানেও অবশ্য সাকিব নিজের অবস্থান থেকে খুব একটা সরে আসেননি।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের পর আচমকাই প্রেক্ষাপটে হাজির হন সাকিব। যাকে জাতীয় দলে ফেরানো নিয়ে লম্বা সময় ধরেই বিসিবির ছিল অনীহা, সেই সাকিবকে আবার বাংলাদেশ দলে ‘ফেরানোর বার্তা’ দেয় খোদ বিসিবিই। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান সিরিজের আগে শুরু হয় তাকে দেশে আনার তোড়জোড়। রাজনৈতিক মামলা থাকার কারণে এখন পর্যন্ত বিষয়টি আটকে আছে।

ঠিক এমন সময়েই ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন, তার দল অর্থাৎ সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আবার শুরু হলেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। তবে সেখানে এটাও উল্লেখ করেছেন, আপাতত ক্রিকেটের দিকেই তার সব মনোযোগ। চেষ্টা করবেন শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরে আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য। তবে প্রসঙ্গটা সাকিব বলেই তার বক্তব্যের এই অংশটি নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

এরপরই সাকিব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সম্প্রতি গণমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। আমি সবার কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের এই শেষ পর্যায়ে এসে আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে চাই এবং সুযোগ পেলে দেশকে কিছু দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।”

সাকিব ডেইলি স্টারের সাক্ষাৎকারে আরও বলেছিলেন, রাজনীতি আজীবন করার সুযোগ থাকবে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে তার হাতে খুব বেশি সময় নেই। আর তাই যতদিন সম্ভব শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজ দলের হয়ে ফিরবেন রাজনীতিতে। এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন রাজনীতির মাধ্যমে সরাসরি দেশের মানুষের জন্য অবদান রাখার বিষয়টি।

যতদিন সম্ভব শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে চান সাকিব। ছবি: রয়টার্স
যতদিন সম্ভব শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে চান সাকিব। ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক পোস্টে রাজনীতির মাধ্যমে উন্নয়নে অবদান রাখার কারণটাও বলেছেন সাকিব। তিনি লিখেছেন, “একটি দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর, আমি আমার দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। তবে সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়। রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, রাজনীতির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়তো অনেক বেশি সহজ হয়।”

সাকিবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারও এই মুহূর্তে রয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ আরও কয়েকটি মামলা। কোনোটিরই কোন সুরাহা হয়নি। বিসিবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আশার কথা বলা হলেও অগ্রগতি হয়েছে সামান্যই। সাক্ষাৎকারে সাকিব এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অনুযোগও করেছেন। তার কথা– বিসিবি তাকে ফেরানোর জন্য আরও বেশি চেষ্টা করতে পারত। সেটা না হওয়ায় তিনিই এখন আইনি জটিলতা সমাধানের জন্য কাজ করছেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাকিব মাগুরা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রশ্নবিদ্ধ সেই নির্বাচনের ৭ মাসের মাথায় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ছাত্র–জনতার রক্তাক্ত এক গণঅভ্যুত্থানে। শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে যান। ২৪ এর জুলাই–আগস্টে আন্দোলনের সময় সাকিব ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার কিছু পোস্ট চরম বিতর্ক ছড়ায়।

সরকার পতনের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে শেষবারের মতো দেশের হয়ে খেলেছেন সাকিব। এরপর বেশ কিছু মামলার কারণে, দেশের মাটিতে সিরিজ খেলতে সাকিব ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে ছিল হত্যা মামলাও।

সম্পর্কিত