রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক তৎপরতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার পোড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস, সিটি এবং ল্যাব বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে গোপন ও প্রকাশ্য রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত কয়েক দিনের দেয়াল লিখন ও পাল্টা দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে। গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষাপটে রুয়েট ক্যাম্পাসের দেয়ালে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য ও গুপ্ত উভয় ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যানার টাঙালে সেটি ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলপন্থী কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে অবস্থানরত অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থী পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করলে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ও সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ সিরিজের পুরোকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, তারা সেশনজটমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাসের আশায় রুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু আবারও ব্যানার পোড়ানো বা স্লাগিংয়ের মতো ঘটনা তাদের আতঙ্কিত করছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
একই সিরিজের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যারা রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। গতকাল রাতের পরিস্থিতি সাধারণ ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাইয়ান আহমেদ জানান, তারা কোনো বিশেষ দলের বিরুদ্ধে নন, বরং রুয়েটে যেকোনো ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে। দেয়াল লিখন মোছা বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার পুড়িয়ে যারা আধিপত্য দেখাতে চায়, তাদের কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে ২০ সিরিজের কোনো শিক্ষার্থী কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যই রুয়েটকে রাজনীতিমুক্ত রাখবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে অবস্থা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক তৎপরতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার পোড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস, সিটি এবং ল্যাব বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে গোপন ও প্রকাশ্য রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত কয়েক দিনের দেয়াল লিখন ও পাল্টা দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে। গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষাপটে রুয়েট ক্যাম্পাসের দেয়ালে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য ও গুপ্ত উভয় ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যানার টাঙালে সেটি ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলপন্থী কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে অবস্থানরত অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থী পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করলে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ও সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ সিরিজের পুরোকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, তারা সেশনজটমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাসের আশায় রুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু আবারও ব্যানার পোড়ানো বা স্লাগিংয়ের মতো ঘটনা তাদের আতঙ্কিত করছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
একই সিরিজের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যারা রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। গতকাল রাতের পরিস্থিতি সাধারণ ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাইয়ান আহমেদ জানান, তারা কোনো বিশেষ দলের বিরুদ্ধে নন, বরং রুয়েটে যেকোনো ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে। দেয়াল লিখন মোছা বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার পুড়িয়ে যারা আধিপত্য দেখাতে চায়, তাদের কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে ২০ সিরিজের কোনো শিক্ষার্থী কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যই রুয়েটকে রাজনীতিমুক্ত রাখবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে অবস্থা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।