সিলেট প্রতিনিধি

উত্তর আফ্রিকা থেকে নৌকায় ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের ১০ যুবক মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন ও দোয়ারাবাজারের একজন।
তবে মৃতদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই অনেকে এসব সংবাদ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দিরাই উপজেলা কর্মকর্তা সনজিব সরকার আজ রোববার সকালে চরচাকে জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার। এরা হলেন- তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)।
নুরুজ্জামান সরদার ময়নার মামা উমেদ আলী চরচাকে বলেন, ‘‘ওই নৌকায় থাকা একজন আমাকে ফোন করে ময়নার মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন। ময়না ছাড়াও দিরাইয়ের আরও তিনজনসহ বেশ কয়েকজন বাংলেদেশি মারা গেছেন।’’
উমেদ আলী বলেন, ‘‘তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে একব্যক্তির সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে ময়নাসহ নিহত অপর তিনজন লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।’’
দিরাইয়ের মাটিয়াপুর গ্রামের যুবক তারেক মিয়ার পরিবার জানিয়েছে, তার (তারেক মিয়া) সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যার ফলে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর ছড়িয়েছে, ভূমধ্যসাগরে ডুবে দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) মারা গেছেন। তিনি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার বাবার কাছ থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার বাউরি গ্রামের মো. সুহানূর, টিয়ারগাও গ্রামের শায়েখ আহমেদ ও মো. আলি, কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম আহমেদ মনির মিয়া, পাইলগাও গ্রামের আমিনুর রহমান।
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘‘আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, আমার ইউনিয়নের দুই যুবক এ ঘটনায় সাগরে মারা গেছেন।’’ নিহতদের স্বজনের বরাত দিয়ে শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘‘তারা গ্রিসে যেতে দালালকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছিল। এখন পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে।’’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া যে কয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন, এরমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের চারজনের ব্যাপারে তিনি জেনেছেন। অন্যদের পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয় নৌকাটি। এরপর দিক ভুলে হয়ে ছয় দিন কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসছিল। এ সময় খাবার ও পানির অভাবে মারা যাওয়া অন্তত ২২ জনের মরদেহ দালালদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
মানবপাচারকারী সন্দেহে নৌকাটিতে থাকা ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিস কর্তৃপক্ষ।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সংকটের কারণে তাদের যাত্রা কঠিন হয়ে উঠে। তিনি বলেন, “জীবিতদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই পাচারকারীর নির্দেশেই মরদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।”

উত্তর আফ্রিকা থেকে নৌকায় ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের ১০ যুবক মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন ও দোয়ারাবাজারের একজন।
তবে মৃতদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই অনেকে এসব সংবাদ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দিরাই উপজেলা কর্মকর্তা সনজিব সরকার আজ রোববার সকালে চরচাকে জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার। এরা হলেন- তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)।
নুরুজ্জামান সরদার ময়নার মামা উমেদ আলী চরচাকে বলেন, ‘‘ওই নৌকায় থাকা একজন আমাকে ফোন করে ময়নার মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন। ময়না ছাড়াও দিরাইয়ের আরও তিনজনসহ বেশ কয়েকজন বাংলেদেশি মারা গেছেন।’’
উমেদ আলী বলেন, ‘‘তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে একব্যক্তির সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে ময়নাসহ নিহত অপর তিনজন লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।’’
দিরাইয়ের মাটিয়াপুর গ্রামের যুবক তারেক মিয়ার পরিবার জানিয়েছে, তার (তারেক মিয়া) সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যার ফলে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর ছড়িয়েছে, ভূমধ্যসাগরে ডুবে দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) মারা গেছেন। তিনি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার বাবার কাছ থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার বাউরি গ্রামের মো. সুহানূর, টিয়ারগাও গ্রামের শায়েখ আহমেদ ও মো. আলি, কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম আহমেদ মনির মিয়া, পাইলগাও গ্রামের আমিনুর রহমান।
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘‘আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, আমার ইউনিয়নের দুই যুবক এ ঘটনায় সাগরে মারা গেছেন।’’ নিহতদের স্বজনের বরাত দিয়ে শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘‘তারা গ্রিসে যেতে দালালকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছিল। এখন পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে।’’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া যে কয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন, এরমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের চারজনের ব্যাপারে তিনি জেনেছেন। অন্যদের পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয় নৌকাটি। এরপর দিক ভুলে হয়ে ছয় দিন কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসছিল। এ সময় খাবার ও পানির অভাবে মারা যাওয়া অন্তত ২২ জনের মরদেহ দালালদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
মানবপাচারকারী সন্দেহে নৌকাটিতে থাকা ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিস কর্তৃপক্ষ।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সংকটের কারণে তাদের যাত্রা কঠিন হয়ে উঠে। তিনি বলেন, “জীবিতদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই পাচারকারীর নির্দেশেই মরদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।”