চরচা ডেস্ক

গোল্ডেন গ্লোবস পুরস্কারের ইতিহাসে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি একটি নতুন বিভাগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। অভিনয়শিল্পী, সিনেমা এবং টিভি শোর পরিচিত পুরস্কারগুলোর সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে সেরা পডকাস্ট ক্যাটাগরি। পডকাস্টিং মূলত একটি অডিও মাধ্যম হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে অনেকটা টেলিভিশনের মতোই হয়ে উঠছে। তবে দর্শকদের চাহিদার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে আধুনিক পডকাস্টের বিষয়টি উঠে আসে।
গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় পডকাস্ট শোনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই বা অ্যাপল নয়। পডকাস্টের জন্য আমেরিকানরা গুগলের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবকে ব্যবহার করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কোলম্যান ইনসাইটস’ এবং ‘অ্যামপ্লিফাই মিডিয়ার’ মতে, প্রতি ১০ জন আমেরিকান শ্রোতার মধ্যে ৩ জনই এখন ভিডিও আকারে পডকাস্ট দেখতে পছন্দ করেন।
অন্যদিকে ইউটিউব জানিয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় পডকাস্ট দেখার হার গত এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
দর্শকদের এই আগ্রহ দেখে পডকাস্টাররাও এখন ক্যামেরার দিকে ঝুঁকছেন। ‘সাউন্ডস প্রফিটেবল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭১% আমেরিকান পডকাস্টের অডিওর পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ড করছেন। আর এর আরেক নামই ‘ভডকাস্ট’। যদিও এসব ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে ‘পডকাস্ট’ নামে।
পডকাস্টের সঙ্গে ভিডিও থাকলে এর বেশ সুবিধা রয়েছে। যা ইউটিউবের প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়। পাশাপাশি পুরো অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় অংশগুলো কেটে (ক্লিপ করে) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায়।
অন্যদিকে আগে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই অধিকাংশ মানুষ নতুন নতুন পডকাস্ট খুঁজে পাচ্ছেন।
নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানো এক বিষয়, আর তাদের ধরে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অনেক পডকাস্টার জানান, ইউটিউবে তারা প্রচুর দর্শক পেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘এনগেজমেন্ট’ পাচ্ছেন না।
পডকাস্ট বিষয়ক ‘পডনিউজ’-এর জেমস ক্রিডল্যান্ড বলেন, “এখানে একটি আপস করতে হয়। দর্শকের সংখ্যার দিক থেকে ইউটিউব অবশ্যই এক নম্বর, কিন্তু পডকাস্টিং থেকে আয় করার আসল চাবিকাঠি হলো দর্শক সেখানে মোট কত সময় ব্যয় করছে।”
বিশ্লেষণী সংস্থা এডিসন রিসার্চের তথ্যমতে, যারা স্পটিফাইতে পডকাস্ট দেখেন, তারা ইউটিউব ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৮ মিনিট বেশি সময় ব্যয় করেন। ২০২০ সালের পর থেকে স্পটিফাইতে ভিডিও কন্টেন্ট দেখার ফিচার চালু হয়।
স্পটিফাইয়ের অ্যালাস্টেয়ার ফেরানস জানান, তারা তাদের প্ল্যাটফর্মটিকে ‘লয়াল্টি’ বা নিয়মিত দর্শক তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী এনগেজমেন্টের জন্য তৈরি করছেন, কোনো এককালীন ভাইরাল হিটের জন্য নয়।
পডকাস্টাররা তাদের শোগুলোকে টেলিভিশনের রূপ দিতে চাচ্ছেন, সেখানে টিভি কোম্পানিগুলোও পডকাস্ট কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হলিউডের বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এখন দর্শকের দীর্ঘ সময়ের এনগেজমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সেই তুলনায় সস্তা এবং দীর্ঘ পডকাস্টগুলো তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। নেটফ্লিক্স ইতিমধ্যে স্পটিফাই এবং আই-হার্ট-মিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আমেরিকায় পডকাস্ট দেখানো শুরু করা হবে।
মিডিয়া কোম্পানি ফক্স এখন পডকাস্টের দিকে ঝুঁকছে। গত বছরের অক্টোবরে কোম্পানিটি একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে জনপ্রিয় পডকাস্ট সিরিজ ‘ক্রাইম জাংকি’-কে তাদের ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘টুবি’-তে নিয়ে আসা হবে।
তবে পডকাস্টকে ভিডিওতে রূপান্তর করার এই প্রবণতা সব ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সমানভাবে ভালো হয়নি। অ্যামপ্লিফাইয়ের স্টিভেন গোল্ডস্টেইন বলেন, “ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে স্ক্রিপ্টেড বা গল্পনির্ভর পডকাস্টগুলো বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
একসময় পডকাস্ট মানেই ছিল ‘ওয়ান্ডারি’-এর মতো বড় কোম্পানির তৈরি চমৎকার সব গল্প বা তথ্যচিত্র। যেমন, ‘ডক্টর ডেথ’ বা ‘দ্য স্পাই হু’–এই ধরনের পডকাস্ট ভিডিওতে রূপান্তর করা বেশ ব্যয়বহুল।
কিন্তু বর্তমানে পডকাস্ট বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি, তা হলো একজন বিখ্যাত ব্যক্তি তার অন্য কোনো বিখ্যাত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন, যা ভিডিও করা সহজ এবং সস্তা। এমনকি পডকাস্টিংয়ের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য মনোনীত বেশিরভাগ শো হলো এরকম সাক্ষাৎকারধর্মী অনুষ্ঠান।
কিছু অডিও-প্রেমীরা অভিযোগ করছেন, ভিডিও যুক্ত হওয়ার কারণে পডকাস্ট শোনার আসল মজা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার কারণ ভিডিওতে পডকাস্টের প্রতিটি ‘উম’ বা ‘আহ’ শব্দ নিখুঁতভাবে কাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এগুলো শুনতে কিছুটা অগোছালো লাগে। অন্যদিকে ভিডিওর জন্য সুবিধাজনক ছোট ক্লিপ-অন মাইক্রোফোন ব্যবহারের ফলে শব্দের গুণমান আগের বড় রেডিও মাইক্রোফোনের মতো ভালো হয় না।
ইউটিউবের নিয়ম বা অ্যালগরিদম ধরে রাখতে অনেক শো-এর একদম শুরুতেই সবচাইতে উত্তেজনাপূর্ণ অংশগুলো দিয়ে দেওয়া হয়, যা পডকাস্টের স্বাভাবিক গতিকে নষ্ট করে দেয়।
অনেকে আবার ভয় পাচ্ছে এটা ভেবে যে, ক্যামেরা, লাইট এবং অন্যান্য দামী সরঞ্জাম কেনার খরচের জন্য নতুন পডকাস্টাররা হয়তো এই মাধ্যমে আসতেই চাইবেন না। এই সমস্যা সমাধানে পডকাস্টারদের জন্য এআই চালিত ভিডিও তৈরির টুল এনেছে ইউটিউব।
এই সবকিছুই আসলে একটি মৌলিক প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে, পডকাস্ট বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? স্পটিফাই-এর মিস্টার ফেরানস বলেন, “বর্তমানে মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন ভিডিও, টক-শো, পডকাস্ট বা ইন্টারনেটের ভিডিওর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখছে না। তাদের প্রত্যাশা সবক্ষেত্রেই প্রায় এক হয়ে যাচ্ছে।”
যেখানে পডকাস্টাররা এখন তাদের অনুষ্ঠানগুলোকে অনেকটা টিভির অনুষ্ঠানের মতো রূপ দিচ্ছেন, সেখানে টিভির জনপ্রিয় তারকারাও ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসন ইন্টারনেটে পডকাস্টের মতো সাক্ষাৎকারভিত্তিক শো করছেন। পডকাস্ট এবং টিভি এখন কেবল গোল্ডেন গ্লোবের মতো বড় পুরস্কারের মঞ্চেই একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে না, বরং তারা এখন একই ধরনের দর্শক এনগেজ করার লড়াইয়ে নেমেছে।

গোল্ডেন গ্লোবস পুরস্কারের ইতিহাসে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি একটি নতুন বিভাগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। অভিনয়শিল্পী, সিনেমা এবং টিভি শোর পরিচিত পুরস্কারগুলোর সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে সেরা পডকাস্ট ক্যাটাগরি। পডকাস্টিং মূলত একটি অডিও মাধ্যম হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে অনেকটা টেলিভিশনের মতোই হয়ে উঠছে। তবে দর্শকদের চাহিদার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে আধুনিক পডকাস্টের বিষয়টি উঠে আসে।
গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় পডকাস্ট শোনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই বা অ্যাপল নয়। পডকাস্টের জন্য আমেরিকানরা গুগলের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবকে ব্যবহার করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কোলম্যান ইনসাইটস’ এবং ‘অ্যামপ্লিফাই মিডিয়ার’ মতে, প্রতি ১০ জন আমেরিকান শ্রোতার মধ্যে ৩ জনই এখন ভিডিও আকারে পডকাস্ট দেখতে পছন্দ করেন।
অন্যদিকে ইউটিউব জানিয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় পডকাস্ট দেখার হার গত এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
দর্শকদের এই আগ্রহ দেখে পডকাস্টাররাও এখন ক্যামেরার দিকে ঝুঁকছেন। ‘সাউন্ডস প্রফিটেবল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭১% আমেরিকান পডকাস্টের অডিওর পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ড করছেন। আর এর আরেক নামই ‘ভডকাস্ট’। যদিও এসব ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে ‘পডকাস্ট’ নামে।
পডকাস্টের সঙ্গে ভিডিও থাকলে এর বেশ সুবিধা রয়েছে। যা ইউটিউবের প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়। পাশাপাশি পুরো অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় অংশগুলো কেটে (ক্লিপ করে) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায়।
অন্যদিকে আগে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই অধিকাংশ মানুষ নতুন নতুন পডকাস্ট খুঁজে পাচ্ছেন।
নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানো এক বিষয়, আর তাদের ধরে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অনেক পডকাস্টার জানান, ইউটিউবে তারা প্রচুর দর্শক পেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘এনগেজমেন্ট’ পাচ্ছেন না।
পডকাস্ট বিষয়ক ‘পডনিউজ’-এর জেমস ক্রিডল্যান্ড বলেন, “এখানে একটি আপস করতে হয়। দর্শকের সংখ্যার দিক থেকে ইউটিউব অবশ্যই এক নম্বর, কিন্তু পডকাস্টিং থেকে আয় করার আসল চাবিকাঠি হলো দর্শক সেখানে মোট কত সময় ব্যয় করছে।”
বিশ্লেষণী সংস্থা এডিসন রিসার্চের তথ্যমতে, যারা স্পটিফাইতে পডকাস্ট দেখেন, তারা ইউটিউব ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৮ মিনিট বেশি সময় ব্যয় করেন। ২০২০ সালের পর থেকে স্পটিফাইতে ভিডিও কন্টেন্ট দেখার ফিচার চালু হয়।
স্পটিফাইয়ের অ্যালাস্টেয়ার ফেরানস জানান, তারা তাদের প্ল্যাটফর্মটিকে ‘লয়াল্টি’ বা নিয়মিত দর্শক তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী এনগেজমেন্টের জন্য তৈরি করছেন, কোনো এককালীন ভাইরাল হিটের জন্য নয়।
পডকাস্টাররা তাদের শোগুলোকে টেলিভিশনের রূপ দিতে চাচ্ছেন, সেখানে টিভি কোম্পানিগুলোও পডকাস্ট কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হলিউডের বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এখন দর্শকের দীর্ঘ সময়ের এনগেজমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সেই তুলনায় সস্তা এবং দীর্ঘ পডকাস্টগুলো তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। নেটফ্লিক্স ইতিমধ্যে স্পটিফাই এবং আই-হার্ট-মিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আমেরিকায় পডকাস্ট দেখানো শুরু করা হবে।
মিডিয়া কোম্পানি ফক্স এখন পডকাস্টের দিকে ঝুঁকছে। গত বছরের অক্টোবরে কোম্পানিটি একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে জনপ্রিয় পডকাস্ট সিরিজ ‘ক্রাইম জাংকি’-কে তাদের ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘টুবি’-তে নিয়ে আসা হবে।
তবে পডকাস্টকে ভিডিওতে রূপান্তর করার এই প্রবণতা সব ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সমানভাবে ভালো হয়নি। অ্যামপ্লিফাইয়ের স্টিভেন গোল্ডস্টেইন বলেন, “ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে স্ক্রিপ্টেড বা গল্পনির্ভর পডকাস্টগুলো বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
একসময় পডকাস্ট মানেই ছিল ‘ওয়ান্ডারি’-এর মতো বড় কোম্পানির তৈরি চমৎকার সব গল্প বা তথ্যচিত্র। যেমন, ‘ডক্টর ডেথ’ বা ‘দ্য স্পাই হু’–এই ধরনের পডকাস্ট ভিডিওতে রূপান্তর করা বেশ ব্যয়বহুল।
কিন্তু বর্তমানে পডকাস্ট বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি, তা হলো একজন বিখ্যাত ব্যক্তি তার অন্য কোনো বিখ্যাত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন, যা ভিডিও করা সহজ এবং সস্তা। এমনকি পডকাস্টিংয়ের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য মনোনীত বেশিরভাগ শো হলো এরকম সাক্ষাৎকারধর্মী অনুষ্ঠান।
কিছু অডিও-প্রেমীরা অভিযোগ করছেন, ভিডিও যুক্ত হওয়ার কারণে পডকাস্ট শোনার আসল মজা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার কারণ ভিডিওতে পডকাস্টের প্রতিটি ‘উম’ বা ‘আহ’ শব্দ নিখুঁতভাবে কাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এগুলো শুনতে কিছুটা অগোছালো লাগে। অন্যদিকে ভিডিওর জন্য সুবিধাজনক ছোট ক্লিপ-অন মাইক্রোফোন ব্যবহারের ফলে শব্দের গুণমান আগের বড় রেডিও মাইক্রোফোনের মতো ভালো হয় না।
ইউটিউবের নিয়ম বা অ্যালগরিদম ধরে রাখতে অনেক শো-এর একদম শুরুতেই সবচাইতে উত্তেজনাপূর্ণ অংশগুলো দিয়ে দেওয়া হয়, যা পডকাস্টের স্বাভাবিক গতিকে নষ্ট করে দেয়।
অনেকে আবার ভয় পাচ্ছে এটা ভেবে যে, ক্যামেরা, লাইট এবং অন্যান্য দামী সরঞ্জাম কেনার খরচের জন্য নতুন পডকাস্টাররা হয়তো এই মাধ্যমে আসতেই চাইবেন না। এই সমস্যা সমাধানে পডকাস্টারদের জন্য এআই চালিত ভিডিও তৈরির টুল এনেছে ইউটিউব।
এই সবকিছুই আসলে একটি মৌলিক প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে, পডকাস্ট বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? স্পটিফাই-এর মিস্টার ফেরানস বলেন, “বর্তমানে মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন ভিডিও, টক-শো, পডকাস্ট বা ইন্টারনেটের ভিডিওর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখছে না। তাদের প্রত্যাশা সবক্ষেত্রেই প্রায় এক হয়ে যাচ্ছে।”
যেখানে পডকাস্টাররা এখন তাদের অনুষ্ঠানগুলোকে অনেকটা টিভির অনুষ্ঠানের মতো রূপ দিচ্ছেন, সেখানে টিভির জনপ্রিয় তারকারাও ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসন ইন্টারনেটে পডকাস্টের মতো সাক্ষাৎকারভিত্তিক শো করছেন। পডকাস্ট এবং টিভি এখন কেবল গোল্ডেন গ্লোবের মতো বড় পুরস্কারের মঞ্চেই একে অপরের সাথে পাল্লা দিচ্ছে না, বরং তারা এখন একই ধরনের দর্শক এনগেজ করার লড়াইয়ে নেমেছে।