চরচা প্রতিবেদক

গোল করলেন, কাঁদলেন, সতীর্থরা সবাই এসে আলিঙ্গন করলেন। কোডি গাকপো এরপর দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে যেন কিছু বলতে চাইলেন। গোলটা কাকে উৎসর্গ করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের এই তারকা ফরোয়ার্ড?
ম্যাচের বয়স তখন ৭২ মিনিট, মাটিতে লুটিয়ে পড়েও ক্রিসেনসিও সামারভিল পাস বাড়ালেন গাকপোর দিকে। মরক্কোর গোলকিপার ও একজন ডিফেন্ডার এগিয়ে গেলেও বুলেট শটে বল জালে পাঠিয়ে ফলোআপে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলেন গাকপো। এরপরই ক্যামেরায় ধরা পড়ল তার চোখে জল। খানিক বাদেই তার সঙ্গে উদযাপনের জন্য গোটা নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড ছুটে গেল। গ্যালারিতে ডাচ ভক্তদের মাঝে গোলের আনন্দ থাকলেও সেখানে যেন মিশে ছিল আবেগী এক বার্তাও। কারণ গাকপোর এই গোলের মাহাত্ব্য যে বিশ্বকাপের নকআউটে একটা গোলের চেয়েও বেশি।
ম্যাচে অবশ্য শেষ রক্ষা আর হয়নি নেদারল্যান্ডসের। শেষ দিকে সমতা টানার পর মরক্কো জিতে যায় টাইব্রেকারে। কান্নায় ভেঙে পড়েন ডাচ খেলোয়াড়েরা। তবে গাকপোর ব্যক্তিগত হাহাকারের সঙ্গে তাদের সেই অশ্রুর কোনো তুলনাই চলে না।
প্রশ্ন করতে পারেন, কীভাবে? উত্তরটা গাকপো বা অন্য কারো জন্যই সহজ হওয়ার নয়। মরক্কো ম্যাচের আগে মাত্র দুই দিন আগে গাকপোর স্ত্রী নোয়া ভ্যান ডের বাই হাতে একটি কম্বল ও ছোট টুপি নিয়ে ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “ভাঙা হৃদয় নিয়ে আমাদের জানাতে হচ্ছে যে, গর্ভাবস্থাতেই আমাদের পুত্র সন্তানটি মারা গেছে। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এলাইজা রাফায়েল গাকপো — সারাজীবন আমাদের ভালোবাসায় থাকবে, তুমি চিরকালই আমাদের সন্তান।”
স্বাভাবিকভাবেই গাকপো পরিবারের জন্য ভীষণ কঠিন এক সময় ছিল সেটা। পারিবারিকভাবে তো বটেই, এমনকি পেশাদার দিক থেকেও। কারণ, এমন সময়ে গাকপো তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেননি। একাকি সেই কষ্ট বয়ে নিয়েই সিদ্ধান্ত নেন শেষ ৩২-এর ম্যাচটি খেলার।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য গাকপোকে বলেছিল, চাইলে তিনি এই ম্যাচ না খেলে দেশে ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু অনাগত সন্তান হারানোর তীব্র বেদনা বুকে নিয়েই তিনি খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখেন।
দেশের জন্য গাকপোর এই নিবেদনের কারণেই তার গোলের পর দলের সবাই মিলে তার কষ্ট ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছেন। আর অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক ম্যাচের আগে বলেন, “ফুটবল সবকিছুর ঊর্ধ্বে নয় এবং জীবনে এর চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আপনি কাউকেই এমন কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে দেখতে চাইবেন না।”
ফন ডাইক যা বলেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কথা নয় কারোরই। দিনশেষে বিশ্বকাপ হলেও অনাগত সন্তানের প্রয়াণের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনাই চলে না। গাকপোর ছেলের জন্মগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ছিল অক্টোবরে। ফলে মানসিকভাবে পরিবারটি ক্রমেই তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল রোমাঞ্চ নিয়ে।
সেখান থেকে যখন এমন একটা খবর আসে, সেটা পরিবারের সবাইকেই কাঁদায়, শোকে স্তব্ধ করে দেয়। গোল করার পর দুই হাত তুলে গাকপো যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন ক্যামেরা খুঁজে নেয় গ্যালারিতে থাকা তার মা-বাবাকে। তাদেরও তখন চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময়ে সঙ্গীকে পাশে না পেলেও গাকপোর পেশাদারত্ব ছুঁয়ে গেছে তার স্ত্রী নোয়াকেও। আকাশের দিকে দুই হাত উঁচু করে রাখা ছবিটি পোস্ট করে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছে, “তোমাকে নিয়ে অনেক গর্বিত।”
ম্যাচে গাকপোকে কোচ তুলে নেন ১১৩ মিনিটে। ফলে টাইব্রেকারে শট নেওয়ার আর সুযোগ মেলেনি তার। যদি মিলত, তাহলে হয়ত ফলাফল ভিন্ন হতেও পারত। তবে তাতে আর কি-ইবা যায় আসে। যা হারিয়েছেন গাকপো ও তার পরিবার, একটা বিশ্বকাপ জিতলেও কি সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া যে সম্ভব নয়।
কেন? ওই যে ফন ডাইক বলেছেন, ফুটবলের চেয়েও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। গাকপোর গল্পটা তাই এই বিশ্বকাপের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হয়ে থাকবে।

গোল করলেন, কাঁদলেন, সতীর্থরা সবাই এসে আলিঙ্গন করলেন। কোডি গাকপো এরপর দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে যেন কিছু বলতে চাইলেন। গোলটা কাকে উৎসর্গ করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের এই তারকা ফরোয়ার্ড?
ম্যাচের বয়স তখন ৭২ মিনিট, মাটিতে লুটিয়ে পড়েও ক্রিসেনসিও সামারভিল পাস বাড়ালেন গাকপোর দিকে। মরক্কোর গোলকিপার ও একজন ডিফেন্ডার এগিয়ে গেলেও বুলেট শটে বল জালে পাঠিয়ে ফলোআপে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলেন গাকপো। এরপরই ক্যামেরায় ধরা পড়ল তার চোখে জল। খানিক বাদেই তার সঙ্গে উদযাপনের জন্য গোটা নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড ছুটে গেল। গ্যালারিতে ডাচ ভক্তদের মাঝে গোলের আনন্দ থাকলেও সেখানে যেন মিশে ছিল আবেগী এক বার্তাও। কারণ গাকপোর এই গোলের মাহাত্ব্য যে বিশ্বকাপের নকআউটে একটা গোলের চেয়েও বেশি।
ম্যাচে অবশ্য শেষ রক্ষা আর হয়নি নেদারল্যান্ডসের। শেষ দিকে সমতা টানার পর মরক্কো জিতে যায় টাইব্রেকারে। কান্নায় ভেঙে পড়েন ডাচ খেলোয়াড়েরা। তবে গাকপোর ব্যক্তিগত হাহাকারের সঙ্গে তাদের সেই অশ্রুর কোনো তুলনাই চলে না।
প্রশ্ন করতে পারেন, কীভাবে? উত্তরটা গাকপো বা অন্য কারো জন্যই সহজ হওয়ার নয়। মরক্কো ম্যাচের আগে মাত্র দুই দিন আগে গাকপোর স্ত্রী নোয়া ভ্যান ডের বাই হাতে একটি কম্বল ও ছোট টুপি নিয়ে ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “ভাঙা হৃদয় নিয়ে আমাদের জানাতে হচ্ছে যে, গর্ভাবস্থাতেই আমাদের পুত্র সন্তানটি মারা গেছে। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এলাইজা রাফায়েল গাকপো — সারাজীবন আমাদের ভালোবাসায় থাকবে, তুমি চিরকালই আমাদের সন্তান।”
স্বাভাবিকভাবেই গাকপো পরিবারের জন্য ভীষণ কঠিন এক সময় ছিল সেটা। পারিবারিকভাবে তো বটেই, এমনকি পেশাদার দিক থেকেও। কারণ, এমন সময়ে গাকপো তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেননি। একাকি সেই কষ্ট বয়ে নিয়েই সিদ্ধান্ত নেন শেষ ৩২-এর ম্যাচটি খেলার।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য গাকপোকে বলেছিল, চাইলে তিনি এই ম্যাচ না খেলে দেশে ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু অনাগত সন্তান হারানোর তীব্র বেদনা বুকে নিয়েই তিনি খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখেন।
দেশের জন্য গাকপোর এই নিবেদনের কারণেই তার গোলের পর দলের সবাই মিলে তার কষ্ট ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছেন। আর অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক ম্যাচের আগে বলেন, “ফুটবল সবকিছুর ঊর্ধ্বে নয় এবং জীবনে এর চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আপনি কাউকেই এমন কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে দেখতে চাইবেন না।”
ফন ডাইক যা বলেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কথা নয় কারোরই। দিনশেষে বিশ্বকাপ হলেও অনাগত সন্তানের প্রয়াণের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনাই চলে না। গাকপোর ছেলের জন্মগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ছিল অক্টোবরে। ফলে মানসিকভাবে পরিবারটি ক্রমেই তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল রোমাঞ্চ নিয়ে।
সেখান থেকে যখন এমন একটা খবর আসে, সেটা পরিবারের সবাইকেই কাঁদায়, শোকে স্তব্ধ করে দেয়। গোল করার পর দুই হাত তুলে গাকপো যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন ক্যামেরা খুঁজে নেয় গ্যালারিতে থাকা তার মা-বাবাকে। তাদেরও তখন চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময়ে সঙ্গীকে পাশে না পেলেও গাকপোর পেশাদারত্ব ছুঁয়ে গেছে তার স্ত্রী নোয়াকেও। আকাশের দিকে দুই হাত উঁচু করে রাখা ছবিটি পোস্ট করে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছে, “তোমাকে নিয়ে অনেক গর্বিত।”
ম্যাচে গাকপোকে কোচ তুলে নেন ১১৩ মিনিটে। ফলে টাইব্রেকারে শট নেওয়ার আর সুযোগ মেলেনি তার। যদি মিলত, তাহলে হয়ত ফলাফল ভিন্ন হতেও পারত। তবে তাতে আর কি-ইবা যায় আসে। যা হারিয়েছেন গাকপো ও তার পরিবার, একটা বিশ্বকাপ জিতলেও কি সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া যে সম্ভব নয়।
কেন? ওই যে ফন ডাইক বলেছেন, ফুটবলের চেয়েও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। গাকপোর গল্পটা তাই এই বিশ্বকাপের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হয়ে থাকবে।