ঘুমের মধ্যে কথা বলা যেভাবে বন্ধ করবেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ঘুমের মধ্যে কথা বলা যেভাবে বন্ধ করবেন
প্রতীকী ছবি/ এআই

ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা অন্যের কথা শুনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই, এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। গবেষণা বলছে, প্রতি ৩ জন মানুষের ২ জনই ঘুমের মধ্যে কথা বলেন। কেউ পুরো বাক্য বলেন, আবার অনেকে ভাঙা ভাঙা শব্দও বলেন।

আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে আচরণগত ঘুম চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. মিশেল ড্রেরাপ এ সমস্যা সমাধানের বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক প্যারাসোমনিয়া বা ঘুমজনিত সমস্যার মূল কারণ ঘুমের ব্যাঘাত। তাই ঘুমের মধ্যে কথা বলা কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুমের মান উন্নত করা এবং যতটা সম্ভব বিঘ্ন কমানো।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা ঘুমের মধ্যে কথা বলেন, তাদের ঘুমের মান সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম থাকে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের মান উন্নত হলে ঘুমের মধ্যে কথা বলাও কমে আসার সম্ভাবনা থাকে।

ডা. মিশেল ড্রেরাপ ঘুমের মান উন্নত করতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেগুলো হলো-

  • নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলা।
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখা।
  • ঘুমানোর আগে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট শান্ত ও স্ক্রিনবিহীন সময় রাখা।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো।
  • ঘুমানোর কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • ঘরকে শান্ত ও অন্ধকার রাখা।
  • শোবার ঘরের তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

ডা. মিশেল ড্রেরাপের পরামর্শ, যদি ঘুমের মান উন্নত করার পরও ঘুমের মধ্যে কথা বলা না কমে, বা ঘুমানোর সময় অস্বাভাবিক কোনো আচরণ লক্ষ্য করেন, তবে রাতভর ঘুমের পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। এতে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ও শরীরে কী ঘটছে তা বিস্তারিত জানা যায়।

ঘুমের পরীক্ষায় মস্তিষ্কের তরঙ্গ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাত-পায়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে অস্বাভাবিক বা ঘুম ব্যাঘাতকারী আচরণও বিশ্লেষণ করা হয়।

সম্পর্কিত