খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির ঘটনায় খালিশপুর থানায় জিডি হয়েছে। আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন খুলনা ওয়াসার কর্মচারীর স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন।
ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ঘুষ না দেওয়ায় কেসিসির ওই কর্মকর্তা তাকে, তার স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “ আমার স্বামী মো. দুলাল উদ্দিন খান দীর্ঘদিন ধরে খুলনা ওয়াসার একজন মাস্টাররোল কর্মচারী (সহকারী পাম্প অপারেটর) হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১২ জুলাই রোববার আনুমানিক বেলা পৌনে ১২ টার দিকে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন হঠাৎ করেই খালিশপুরস্থ আমাদের বসতি ও সংরক্ষিত পাম্প হাউজে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।”
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, “পাম্প হাউজটি জনস্বার্থে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং খুলনা ওয়াসা কর্তৃক আমার স্বামীকে সেখানে বসবাসের অনুমতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনাপত্তি প্রদান করা আছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পটি সচল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমার স্বামী নিজ খরচে সংস্কার কাজ করালে, কেসিসি'র কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে।”
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, “আমার স্বামী ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং কেসিসি'র কোনো অনুমতিপত্র আছে কি না দেখতে চাইলে, অভিযুক্ত গাজী সালাউদ্দিন প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে গালিগালাজের একপর্যায়ে আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করতে উদ্যত হয়। আমি তাকে থামাতে সামনে এগিয়ে গেলে সে আমাকে সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, আমাদের বাঁচাতে যখন আমার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে নিলয় (২২) এগিয়ে আসে, ওই নির্দয় ব্যক্তি আমার প্রতিবন্ধী ছেলের ওপরও হাত তোলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, “ঘটনার শেষ এখানেই নয়, যাওয়ার সময় সে তার মোবাইল ফোনে এলাকা থেকে লোকজন ডেকে এনে আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।”
এই ঘটনার বিষয়ে ফরিদা ইয়াসমিন ইতোমধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, খালিশপুর থানা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খুলনা ওয়াসা বরাবরে তাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার আবেদনও জানিয়েছেন।
এদিকে ২০ হাজার টাকা ঘুষের দাবি অস্বীকার করে খুলনা সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বলেন, “ওই এলাকায় করপোরেশনের ০ দশমিক ১৮২৫ একর জমির উপর অকেজো পাম্প রয়েছে। ওই জায়গা দীর্ঘদিন দখল করে ওয়াসার ওই কর্মচারী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এছাড়া একটি কোচিং সেন্টার কে বা কারা চালাচ্ছেন। জায়গাটি সিটি করপোরেশনের হওয়ায় এলাকাবাসী ওই জায়গায় পার্ক স্থাপনের জন্য আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেশন ওই জায়গার উপর বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নেয়।”
গাজী সালাউদ্দিন আরও বলেন, “ফলে ওইদিন আমিসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দখলদাররা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।”
গত ২১ জুলাই ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দখলদারদের নোটিশ পাঠিয়েছে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলে জানান কেসিসির কর্মকর্তা।