বরিশালে শতবর্ষী লালার দিঘি ভরাটের অভিযোগ

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশালে শতবর্ষী লালার দিঘি ভরাটের অভিযোগ
শতবর্ষী লালার দিঘি। ছবি: চরচা

বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত শতবর্ষী লালার দিঘির একটি বড় অংশ ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর বলেছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রুপাতলী হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ দিঘিটির দক্ষিণ পাড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় পাইলিং করে বালু ভরাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির দক্ষিণ পাশে কংক্রিটের পাইলিং দিয়ে সীমানা নির্ধারণ ভাগ করে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাস ধরে এই কাজ চলছে। পাঁচ একরের বেশি আয়তনের এই দিঘিটি আগেই দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। নতুন করে ভরাটের ফলে জলাধারটি আরও ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা।

রুপাতলী হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ভরাট করা অংশটি তাদের অধিগ্রহণ করা জমি। সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৭-৭৮ সালে দিঘির দক্ষিণ পাড়ে ৫০ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে সেটি দিঘির মধ্যে চলে গেছে। নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারের জন্যই ভরাট করা হয়েছে এবং এটি জলাশয় নয়, দিঘির পাড় হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অনুমতি ছাড়া জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানান, লালার দিঘির ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। শ্রেণি পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ ও বাংলাদেশ ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৩ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কোনো জলাশয় ভরাট করা বেআইনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আশির দশকে রুপাতলী এলাকায় হাউজিং এস্টেট গড়ে ওঠে। এর দক্ষিণ পাশে জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন ছয় একরের জলাশয়টি লালার দিঘি নামে পরিচিত। দিঘিটির তিন পাশে আবাসিক এলাকা এবং পশ্চিম পাশে একটি সড়ক রয়েছে। পশ্চিমাংশে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু জমি থাকলেও দিঘির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান দাবি করেন, উচ্চ আদালতের রায়ে দিঘিটির মালিক তিনি। তবে জেলা প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি জানান, দিঘির একটি বড় অংশ জেলা প্রশাসনের খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, মালিকানা যাই হোক না কেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া জলাশয় ভরাট আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় বেলা আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত