মাস্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ওপেন এআই, ডিপসিককে টেক্কা দেওয়া আবিষ্কার ২ তরুণের

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মাস্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ওপেন এআই, ডিপসিককে টেক্কা দেওয়া আবিষ্কার ২ তরুণের
স্যাপিয়েন্ট। ছবি: লিংকড ইন

মিশিগানের ২২ বছরের দুই তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। টেক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের বিশাল অঙ্কের ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাদের নিজস্ব প্রকল্প নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

ওই দুই তরুণ উইলিয়াম চেন এবং গুয়ান ওয়াং, স্যাপিয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। মিশিগানের একটি হাইস্কুলে পড়ার সময় তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তখনই দুই বন্ধুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদেরকে এক করে।

ওয়াংয়ের লক্ষ্য ছিল, এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করা যা যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারে। আর চেনের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৌশল ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো।

এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

চেন বলেন, “একদিন আমরা এমন একটি এআই তৈরি করব, যা মানুষের চেয়েও স্মার্ট হবে, গুয়ান আর আমার কাছে মনে হয় এটা অনেকটা প্যান্ডোরার বাক্সের মতো। আমরা যদি এটি তৈরি না করি, অন্য কেউ করে ফেলবে। তাই আমাদের ইচ্ছা আমরাই প্রথম এটি বাস্তবে রূপ দিতে পারব।”

হাইস্কুলের পাঠ চুকিয়ে চেন ও ওয়াং দুজনেই বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শুরুতে কিছু একাডেমিক চাপ থাকলেও, পরবর্তীতে তারা তাদের কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমর্থন পান।

ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেন বলেন, “বৃহৎ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা এমন একটি নতুন কাঠামো বানাতে চাই যা বৃহৎ পরিসরের মেশিন লার্নিংয়ের সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করবে।”

তাদের প্রথম সাফল্য আসে OpenChat নামের একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) দিয়ে, যাকে উন্নত প্রযুক্তির বাছাইকৃত সংলাপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করে এমনভাবে নকশা করা হয় যাতে নিজে নিজেই আপগ্রেড করতে পারে। ওপেনচ্যাট দ্রুতই একাডেমিক মহলে স্বীকৃতি পায়।

শেষ পর্যন্ত এই মডেল ইলন মাস্কের নজরে পড়ে। তার কোম্পানি একএআই-এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেন। কিন্তু চেন এবং ওয়াং সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

পরবর্তীতে তারা গড়ে তোলেন স্যাপিয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স এবং তাদের নতুন হায়ারার্কিকাল রিজনিং মডেল (এইআরএম)-যা বর্তমানে প্রচলিত সব এআই সিস্টেমকে ছাড়িয়ে যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এ বছরের জুন মাসে উল্লেখযোগ্য একটি সাফল্য আসে, যখন মাত্র ২৭ মিলিয়ন প্যারামিটার-এর একটি প্রোটোটাইপ ওপেনএআই, এনথ্রোপিক বা ডিপসিকের সিস্টেমগুলোর চেয়ে বিভিন্ন জটিল কাজে দ্রুততর ফলাফল দেয়, যার মধ্যে ছিল সুডোকু, গোলকধাঁধা সমাধান ইত্যাদি।

চেন বলেন, “এই সাফল্য ছিল অবিশ্বাস্য। শুধু গাঠনিক কাঠামো বদলানোতেই এই মডেলটির ‘যুক্তিগত গভীরতা’র অনেকটা পাওয়া গেল।” প্রচলিত ট্রান্সফর্মার মডেলগুলো যেখানে পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পরের শব্দ অনুমান করে, সেখানে এইচআরএম ব্যবহার করে দুই অংশের পুনরাবৃত্তিমূলক কাঠামো, যা মানবচিন্তার মতো ইচ্ছাকৃত বিশ্লেষণী ভাবনা এবং দ্রুত প্রতিফলনমূলক প্রতিক্রিয়াকে একত্র করে।

চেন বলেন, “এটা অনুমান করছে না, এটা চিন্তা করছে।”

চেন আরও জানান, তাদের মডেলগুলো প্রচলিত এলএলএম-এর তুলনায় অনেক কম ‘হ্যালুসিনেশন’-এর শিকার হয় এবং আবহাওয়া পূর্বাভাস, পরিমাণগত বাণিজ্য এবং চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মতো কাজে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মতো দক্ষতা দেখাচ্ছে।

স্যাপিয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স শিগরগিরই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অফিস খোলার পরিকল্পনা করছে।

সম্পর্কিত