খুলনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার পৃথক ধারায় গ্রামীণ ব্যাংকের চারজন সাবেক কর্মকর্তাকে ৩০ বছরের সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ বছরের বিনাশ্রম কারদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ বুধবার খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাঃ আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইয়াছিন আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তারা পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো: ইনছার আলী, একই ব্যাংকের সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস এবং ওই ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
প্রথম ঘটনায়, ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৬৭ জনের নামে ৬ লাখ ২১ হাজার ৮৯৩ টাকা ঋণ দেখিয়ে, কিস্তি বাদে অবশিষ্ট ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬১ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। ২০১৪ সালে দুদক কর্মকর্তা এসএম শামীম ইকবালের দায়ের করা মামলায় সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, শাখা ব্যবস্থাপক মো: ইনছার আলী ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালে আদালত ৪০৯/১০৯ ও ৪৬৮/১০৯ ধারায় তাদের পৃথকভাবে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দ্বিতীয় ঘটনায়, প্রায় একই সময়ে ১২৬ জন ব্যক্তির নামে ১০ লাখ ৬২ হাজার ২১০ টাকা মিথ্যা ঋণ দেখিয়ে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬২৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দুদক কর্মকর্তা মো: মোশাররফ হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন, সাবেক ব্যবস্থাপক মো: ইনছার আলী ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাদের দুটি আলাদা ধারায় মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে অতিরিক্ত মেয়াদের সাজা দেন।
রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামি উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।