পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে সিলেটে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম চামড়া দ্রুত বিক্রি করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সারওয়ার এসব দিকনির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি চামড়া বিক্রি করতে সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় এ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ তদারকি বজায় রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর সিলেট জেলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের সুবিধার্থে সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় ৩৮৫ টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ কিংবা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি কোরবানি না করার জন্য জেলা প্রশাসক অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার মধ্যে পুরো বর্জ্য অপসারণের নিশ্চয়তা দিয়েছে সিসিক কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান জানান, প্রশাসনের ইতিবাচক আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চামড়া সংগ্রহ না করার পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তবে ঈদের ছুটির কারণে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় এবার জনবল সংকট রয়েছে। তাই তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে পারবেন না।
নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন দানের চামড়াগুলো নিজ দায়িত্বে নিকটবর্তী মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। অবশ্য যেসব মাদ্রাসায় আবাসনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন, তারা ঈদের দিন চামড়া সংগ্রহ করবেন এবং পরবর্তীতে তা প্রশাসনের কাছে বিক্রি করবেন।