ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনার অভিযোগ নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতারা।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, “আমাদের বারবার বলা হয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে এই দাবির মিল নেই।” সব ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দু নেতারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
বাসুদেব ধর আরও বলেন, সংসদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কার্যত কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করতে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের মন্দির পরিদর্শন এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয় পূজার আয়োজনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জামায়াতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দেশের উন্নয়নে সব ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মসজিদে খুতবার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে মুসলিম নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান সুব্রত চৌধুরী। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশকে ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রকৃত উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ডা. শফিকুর রহমান হিন্দু নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিরোধী দল তাদের উদ্বেগের কথা শুনবে এবং সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাবে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মন্দির সুরক্ষা এবং পূজারিদের সহায়তায় জামায়াতের কর্মীরা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, বৈঠকে হিন্দু নেতারা তার প্রশংসাও করেছেন।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত সব ধর্মের মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।