Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

স্যামসাং কি আগের সেই রমরমা ব্যবসায় ফিরতে পারবে?

হাস্যকর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের একটি ধর্মঘটের সময় এই ইউনিয়ন সদস্যরাই এআইয়ের জোয়ার কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্যামসাং কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল।

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ২০: ২০
স্যামসাং কি আগের সেই রমরমা ব্যবসায় ফিরতে পারবে?

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বেশ বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় সক্ষমত বজায় রাখতে না পারা এবং বাজারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ২০২৪ সালে দুঃখ প্রকাশ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার এই ‘জায়ান্ট’ প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান সময়ে তাদের আর সেই অনুশোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।

Advertisement

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে বিশ্বজুড়ে বিপুল বিনিয়োগের ওপর ভর করে চলতি মাসে স্যামসাংয়ের বাজার মূল্য গত বছরের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আট গুণেরও বেশি বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বিশেষ করে স্যামসাংয়ের উন্নত মেমরি চিপের চাহিদার কারণে এই মুনাফা আরও দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকবে।

রেফ্রিজারেটর থেকে শুরু করে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের পণ্য তৈরি করে এক বিশাল বলয় পরিচালনা করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। তবে দিন দিন তাদের ব্যবসা চিপ তৈরির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রথম প্রান্তিকে তাদের মোট বিক্রির ৬১ শতাংশ এবং পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই এসেছে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) খাত থেকে।

এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মেমরি চিপ ব্যাপকভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম–বিশ্বে এমন মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি হলো স্যামসাং। বাকি দুটি হলো তাদের দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘এসকে হাইনিক্স’ ও আমেরিকার ‘মাইক্রন’। আগের তিন মাসের তুলনায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মেমরি চিপ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে চিপের গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চিপের সংকটে পড়া ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তির জন্য নিজে থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্যামসাং ধারণা করছে, চিপের এই ঘাটতি আগামী বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

স্যামসাং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবে তা তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে। চলতি বছরের শেষের দিকে তাদের একটি নতুন কারখানায় বিক্রির জন্য তারা অধিক চিপের উৎপাদন শুরু করবে। এ ছাড়া আগামী জুলাইয়ে তারা প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরেকটি কারখানা নির্মাণ শুরু করবে। তবে ‘পি৫ ফ্যাব ২’ নামের এই কারখানাটি ২০৩০ সালের আগে প্রস্তুত হবে না।

ম্যাককুয়ারি ব্যাংকের ড্যানিয়েল কিমের মতে, যদিও এই বছর কোম্পানিটির মূলধনী ব্যয় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে, তাও সামগ্রিক রাজস্বের অনুপাত হিসেবে এটি আসলে কমছে।

ইরান যুদ্ধ: সংকটে চিপ শিল্প, বড় ক্ষতির শঙ্কাiran israel war-chip price high

স্যামসাংয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে, যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়। চিপ তৈরির কারখানাগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এগুলো সম্পূর্ণ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। যার ফলে এই শিল্পে আগে থেকেই এক ধরনের উত্থান-পতনের চক্র দেখা যায়।

চিত্রিনী রিসার্চের বিশ্লেষক জুকান চো উল্লেখ করেছেন, গত ফ্ল্যাশ-মেমরি চক্রের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি স্যামসাং এবার চাইবে না। সে সময় চাহিদা বাড়ায় স্যামসাং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছিল, যার ফলে ২০১৯ সালে তাদের পরিচালন মুনাফা অর্ধেক হয়ে যায়।

একই সঙ্গে স্যামসাং তাদের ‘ফাউন্ড্রি’ (লোহা, অ্যালুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতু গলিয়ে তরল করে ছাঁচে ঢালার মাধ্যমে বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ বা পণ্য তৈরি) ব্যবসাও সম্প্রসারিত করছে, যা মূলত অন্য কোম্পানির ডিজাইন করা চিপ তৈরি করে দেয়। আমেরিকান গ্রাহকদের সেবা দিতে টেক্সাসে তাদের একটি নতুন কারখানা এই বছর চালু হবে। লোকসানে থাকা এই বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের টিএসএমসির চেয়ে পিছিয়ে ছিল এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ে বেশ অভিযোগও উঠেছিল। বিশাল গ্রাহক ভিত্তি থাকার কারণে টিএসএমসি বড় স্কেলে কাজ করার সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে, যা তাদের বাজারে একচেটিয়া সুবিধা দেয়।

স্যামসাং। ছবি: রয়টার্স
স্যামসাং। ছবি: রয়টার্স

তবে এআইয়ের এই সময়ে স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি ব্যবসাকে দুটি উপায়ে সাহায্য করছে। প্রথমত, টিএসএমসির বুকিং এখন পুরোপুরি পূর্ণ। এর ফলে টেসলা এবং কোয়ালকমের মতো কিছু বড় গ্রাহক স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেমরি ব্যবসায় বিপুল মুনাফা হওয়ার কারণে কোম্পানিটির হাতে এখন বিনিয়োগ করার মতো প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে।

তবুও, মেমরি বিভাগের এই সাফল্য অন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করেছে। চিপের চড়া মূল্যের কারণে স্যামসাংয়ের একসময়ের ‘কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স’ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্মার্টফোন বিভাগেও লাভের পরিমাণ কমে গেছে। এমনকি এই বছর বিভাগটি লোকসানের মুখও দেখতে পারে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। গত ১১ই মে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের উপদেষ্টা কিম ইয়ং-বম চিপ ব্যবসার মুনাফা নাগরিকদের মাঝে পুনর্বণ্টন করার জন্য একটি ‘জাতীয় লভ্যাংশ’-এর প্রস্তাব করেন। যদিও পরবর্তীতে মি. লি স্পষ্ট করেছেন, কোনো নতুন কর নয়, বরং চিপের ব্যবসা থেকে আসা অতিরিক্ত কর রাজস্বই কেবল বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ইউনিয়নগুলোর একটি জোট দাবি করছে, মেমরি বিভাগের মুনাফার ১৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বণ্টন করতে হবে, যা ইতোমধ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সে চালু রয়েছে। দাবি না মানলে তারা ২১ মে থেকে কয়েক সপ্তাহের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। যার ফলে স্যামসাংয়ের প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ওয়ানের ক্ষতি হতে পারে।

হাস্যকর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের একটি ধর্মঘটের সময় এই ইউনিয়ন সদস্যরাই এআইয়ের জোয়ার কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্যামসাং কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল।

সাফল্যের কারণে তৈরি হওয়া এসব সমস্যা হয়তো স্যামসাংয়ের কাছে এক দিক থেকে স্বস্তির। কারণ ব্যবসা ভালো চলছে। তবে দিনশেষে এগুলোও কিন্তু বড় ধরনের সমস্যাই।

(লেখাটি দ্য ইকোনোমিস্ট থেকে নেওয়া)

বিষয়: আমেরিকাদক্ষিণ কোরিয়াব্যবসাএআইবাণিজ্যস্যামসাং
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

  • ২

    কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, নিহত ৫

  • ৩

    নেহা বোরাকে ছেড়ে দিল পুলিশ, আদালতে তোলা হবে অভিজিৎকে

  • ৪

    আমেরিকা নির্ভরতার মূল্য দিচ্ছে সৌদি আরব

  • ৫

    হাজারীবাগের হাজি নুরুর তেহারি খেতে এত ভিড় কেন?

সম্পর্কিত
  • বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, কোথায় শক্তি, কোথায় চ্যালেঞ্জ

    বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, কোথায় শক্তি, কোথায় চ্যালেঞ্জ

    বাংলাদেশ তার সীমিত সম্পদ ও সাশ্রয়ী অবকাঠামো ব্যবহার করে শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থনীতিতে অভাবনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের টেকসই ভিত্তি গঠনে এখনো বেশ পিছিয়ে।

  • বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী বার্তা দিচ্ছে?

    বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী বার্তা দিচ্ছে?

    হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট সূচকের এই ওঠানামা থেকে বোঝা যায়- আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান এখনও বেশ সীমিত।

  • ‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?

    ‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?

    ‘মোস্তাফিজুর ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা? আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে ড্র হওয়া টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ ঘণ্টায় একজনকে খুব মিস করেছে বাংলাদেশ দল। তিনি নাহিদ রানা। কেননা, চলতি বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পঞ্চম দিনে একটা স্পেলে তার গতিময় বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা উ

  • ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন নিজেদের আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও প্রযুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু চলমান যুদ্ধ তাদেরকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরান এখন প্রযুক্তির এই নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তাকেই একটি ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানাতে চাইছে।