Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৪৫
মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

সম্প্রতি আন্দামানে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সবারই সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারমধ্যে ছিলেন ২০ জন রোহিঙ্গা। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে এমন বিপদসংকুল যাত্রার যে হিড়িক পড়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

Advertisement

এই ঘটনায় বেঁচে ফেরাদের মধ্যে আছেন রহিলা বেগম। আন্দামান সাগরে টানা দুই দিন দুই রাত একটি ভাঙা কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভেসে ছিলেন তিনি। মালয়েশিয়াগামী ওই নৌকায় উপচে পড়া ভিড় ছিল। এরপর যে কয়েকজন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন, রহিলা তাদেরই একজন।

তিনি বলেন, “আমার শরীরের শক্তি শেষ হয়ে আসছিল। এক সময় কাঠের তক্তাটি ভেসে দূরে চলে গেল, গভীর সাগরে আমি একা হয়ে পড়লাম। আমি আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছিলাম। বাবা-মায়ের দোয়া আমার সাথে ছিল। এরপর আল্লাহর কুদরতে একটি জাহাজ এসে আমাকে উদ্ধার করে”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে জীবনযাত্রার মান অবনতি এবং মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণঘাতী এই সমুদ্রযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স

ক্যাম্পে বছরের পর বছর কর্মসংস্থানহীন জীবন, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ত্রাণ কমে আসায় তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পাচারকারী বা নৌকাডুবির ভয়ের চেয়েও এখন বাঁচার তাগিদ অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

রহিলার হাত ও শরীরে পোড়া দাগ যা সমুদ্রের পানির সাথে মিশে থাকা নৌকার জ্বালানি থেকে হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘ সেই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে।

নয় বছর পার হয়ে গেলেও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো লক্ষণ নেই। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সেখানে জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ করতে পারেন না, চলাফেরায় রয়েছে বিধিনিষেধ। ত্রাণের বরাদ্দ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে এখন অনাহারে থাকতে হচ্ছে। এই নিরাপত্তাহীনতা ও পাচারকারীদের তৎপরতা তাদের চরম হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে।

এত বড় বিপদের পরও কেন আবার ফিরে যেতে চান? এমন প্রশ্নে রহিলা বলেন, “সুযোগ পেলে আমি আবার চেষ্টা করব। এখানে ক্যাম্পে আমার স্বামী নিয়মিত আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। আমি তার হাত থেকে এবং এই কষ্টকর জীবন থেকে মুক্তি চাই। এখানে আমার আর মন টেকে না।”

রহিলার এই গল্প মূলত একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন মাত্র।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। সে বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন মারা গেছেন। এটা বিশ্বের যেকোনো শরণার্থী সমুদ্রপথের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স
২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স

২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ হাজার ৮ শর বেশি রোহিঙ্গা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই থাকে। পাচার, শোষণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও অনেকে দেশ ছাড়ছেন।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইলেও নাগরিকত্ব না থাকা এবং ক্রমাগত নিপীড়ন তাদের আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রটেকশন বিষয়ক মুখপাত্র অ্যাস্ট্রিড কাস্টেলিন জানান, ত্রাণ কমে যাওয়ায় শরণার্থীরা বাল্যবিবাহ, জুয়া, অপহরণ এবং বিপজ্জনক অভিবাসনের মতো ক্ষতিকর পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তরুণ এবং তারা একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে, যার ফলে যুবসমাজ ও পরিবারগুলো এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

রহিলা বেগমের জন্য জীবনের সমীকরণটি এখন খুবই কঠিন, হয় ক্যাম্পের দুর্বিষহ জীবন মেনে নেওয়া, না হয় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জীবনের শেষ ঝুঁকি নেওয়া।

তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছান, আমি সেখানে একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করে নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই। আর তা না হলে সেখানে ভালো মানুষের আশ্রয় নিয়ে থাকব। আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।’’

বিষয়: নৌকাডুবিনিহতইউএনএইচসিআররোহিঙ্গা শরণার্থীরোহিঙ্গা ক্যাম্পরোহিঙ্গা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

  • ২

    কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, নিহত ৫

  • ৩

    নেহা বোরাকে ছেড়ে দিল পুলিশ, আদালতে তোলা হবে অভিজিৎকে

  • ৪

    আমেরিকা নির্ভরতার মূল্য দিচ্ছে সৌদি আরব

  • ৫

    হাজারীবাগের হাজি নুরুর তেহারি খেতে এত ভিড় কেন?

সম্পর্কিত
  • বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, কোথায় শক্তি, কোথায় চ্যালেঞ্জ

    বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, কোথায় শক্তি, কোথায় চ্যালেঞ্জ

    বাংলাদেশ তার সীমিত সম্পদ ও সাশ্রয়ী অবকাঠামো ব্যবহার করে শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থনীতিতে অভাবনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের টেকসই ভিত্তি গঠনে এখনো বেশ পিছিয়ে।

  • বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী বার্তা দিচ্ছে?

    বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী বার্তা দিচ্ছে?

    হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট সূচকের এই ওঠানামা থেকে বোঝা যায়- আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান এখনও বেশ সীমিত।

  • ‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?

    ‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?

    ‘মোস্তাফিজুর ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা? আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে ড্র হওয়া টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ ঘণ্টায় একজনকে খুব মিস করেছে বাংলাদেশ দল। তিনি নাহিদ রানা। কেননা, চলতি বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পঞ্চম দিনে একটা স্পেলে তার গতিময় বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা উ

  • ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন নিজেদের আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও প্রযুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু চলমান যুদ্ধ তাদেরকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরান এখন প্রযুক্তির এই নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তাকেই একটি ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানাতে চাইছে।