গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের। এর আগেই অবশ্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে। এর বড় একটা অংশ চলছে অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত এক মাসে বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকে শীর্ষ যে ১০টি পেজ থেকে বিজ্ঞাপনী ব্যয় হয়েছে, তার ৬৯ শতাংশই রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবে। নিয়ম মেনে বা না মেনে চালানো এ প্রচারে বিএনপিই শীর্ষে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জন্য সর্বোচ্চ খরচ করা যে পেজগুলো আছে, তার মধ্যে প্রথম ১০টির গত ৩০ দিনের খরচ এক করলে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৮২৮ ডলার। আজ মঙ্গলবার মুদ্রার বিনিময় মূল্য অনুযায়ী ২৪ লাখ টাকারও বেশি।
নির্বাচনী প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষিদ্ধ বা অবৈধ না হলেও মেটাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, যা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মেটার অ্যাড লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পেজ থেকে যেমন, তেমনি অন্য কোনো পরিচয়ের আড়ালেও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চলছে। ব্যক্তি রাজনীতিক থেকে শুরু করে দলীয়ভাবে পরিচালিত পেজগুলো থেকে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিধি মানা হলেও অন্য পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বিধি মানা হচ্ছে না।
মজার বিষয় হলো, এই শীর্ষ দশের মধ্যে একদম শীর্ষে থাকা MartSector পেজের ডিসক্লেইমারে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকলেও দেখা গেছে তারা সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে নির্বাচনী প্রচারে। ক্লথিং ব্র্যান্ডের পরিচয়ে ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই পেজের বিজ্ঞাপনের পেছনে এযাবৎকালে সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ৩৩৩ ডলার। গত ৯ বছরের মধ্যে এই পেজের গত ৩০ দিনের বিজ্ঞাপনের খরচই ৫ হাজার ৮৬৩ ডলার। আর এ কয়েক দিনে এই পেজ থেকে চলছে নির্বাচনী প্রচার; অর্থাৎ, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন।
মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনীতি সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিজ্ঞাপনে এর পৃষ্ঠপোষক বা অর্থায়নকারীর নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে মেটার স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে সেই বিজ্ঞাপন শনাক্ত হওয়া এবং দ্রুত সরিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু তেমনটি এই পেজের ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাদের প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলো এখনো দৃশ্যমান।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে এই নীতি অনুসরণ না করেও নির্বাচনী প্রচার চলছে ফেসবুকে। কিন্তু মেটা সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে তারা উল্লেখ করেছে, “বাণিজ্যিক পণ্যে রাজনৈতিক প্রতীক অনুসন্ধানে অন্তত ৪২টি এমন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলের লোগো সম্বলিত টি-শার্ট, ক্যাপ, হুডিসহ বিভিন্ন পণ্য বিপণন করা হয়েছে। মেটার নীতি অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন যেকোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন থাকবে বিশেষ ক্যাটাগরিতে। তবে প্ল্যাটফর্মটি এই ৪২টি বিজ্ঞাপনের একটিকেও সেভাবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি। ফলে এগুলোর অন্তর্নিহিত বার্তা রাজনৈতিক হওয়া সত্ত্বেও ব্যবহারকারীদের কাছে এগুলো কেবল সাধারণ ই-কমার্স বিজ্ঞাপন হিসেবে পৌঁছেছে।”
মেটা ডেটা বিশ্লেষণ করে এমন কিছু পেজের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা মেটার পলিসি না মেনেই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা ১০টি পেজের মধ্যে যে পেজগুলো রয়েছে, সেগুলো হলো–‘MartSector’, ‘Harbal Medicine-হারবাল মেডিসিন’, ‘BNP Media Cell’, ‘Araam: আরাম’, ‘Tarique Rahman’, ‘Anamon Premium-যৌবন শতদল’, ‘Health & Wellness’, ‘Dr. Khaliduzzaman SM’, ‘Bangladesh Nationalist Party-BNP’ ও ‘ইকো ফুড'স’।
বিএনপির লোগো
এর মধ্যে সরাসরি পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো পেজের সংখ্যা চারটি। যদিও মোট ৬টি পেজ থেকে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। শীর্ষ এ ১০টি পেজের মধ্যে ৫টি পেজ থেকে চালানো হচ্ছে বিএনপির প্রচার। আর জামায়াতের প্রচার চালানো হচ্ছে একটি পেজ থেকে।
সরাসরি বিএনপি মিডিয়া সেল, বিএনপির নিজস্ব পেজ ও দলটির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের নামে পরিচালিত পেজগুলো ছাড়াও বিএনপি MartSector ও Araam: আরাম–এ দুই পেজ থেকে তাদের প্রচার চালাচ্ছে। এ দুটি পেজই পোশাকের ব্র্যান্ডের। তারা বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ, দলের লোগো ও দলীয় পতাকার রং ব্যবহার করে নানা ধরনের পণ্য বাজারে এনেছে, যার বিপণনকে সামনে রেখে তারা রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে।
মেটা অ্যাড লাইব্রেরি পর্যবেক্ষেণে দেখা যায়, গত ১ মাসে ফেসবুকে বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করা শীর্ষ ১০ পেজের মোট ব্যয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৮৯ শতাংশ। জামায়াতের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬ ও ১১ দশমিক ১ শতাংশ।
শীর্ষ দশে থাকা বিএনপির প্রচারে মোট ব্যয়ের ৬১ শতাংশের বেশি ব্যয় হয়েছে পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে মেটার বিধি মানা হয়নি।
মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, সামাজিক বিষয়, নির্বাচন বা রাজনীতি-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন চালাতে চাইলে যেকোনো বিজ্ঞাপনদাতাকে একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোনো বিজ্ঞাপন যদি কোনো রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নির্বাচন বা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে যায়, তবে তাতে অবশ্যই একটি ডিসক্লেইমার থাকতে হবে। এই ডিসক্লেইমারে বিজ্ঞাপনটির অর্থায়ন কে করেছে, তার নাম ও ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপনে কোনো দলের লোগো বা স্লোগান ব্যবহার করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়া উচিত। মেটার নীতি অনুযায়ী, “যেসব বিজ্ঞাপনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো পণ্য বিক্রি বা সেবা প্রদান, সেগুলোকে সামাজিক ইস্যু-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন হিসেবে গণ্য নাও করা হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অনুমোদন ও ডিসক্লেইমারের প্রয়োজন নেই। তবে এটি এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেখানে কোনো রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বা আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।” তবে বাস্তবে এই নীতিগুলোর প্রয়োগ শিথিল বলে মনে হয়। বিশেষ করে, বাংলা ভাষার কনটেন্ট এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে মেটার সিস্টেমের দুর্বলতা এই অনুসন্ধানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এতে যে প্রার্থীর ক্যাম্পেইনে ফ্ল্যাগ তোলা হবে এবং যার ক্যাম্পেইন মেটার চোখ এড়িয়ে যাবে, তাদের মধ্যে স্পষ্টত একটা বৈষম্য করা হবে। এতে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে রাজনৈতিক মেরুকরণে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মে এমন দুর্বলতা কতটা প্রযুক্তিগত আর কতটা ইচ্ছাকৃত, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
বিএনপির সমাবেশ। ছবি: চরচা
গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের। এর আগেই অবশ্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে। এর বড় একটা অংশ চলছে অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত এক মাসে বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকে শীর্ষ যে ১০টি পেজ থেকে বিজ্ঞাপনী ব্যয় হয়েছে, তার ৬৯ শতাংশই রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবে। নিয়ম মেনে বা না মেনে চালানো এ প্রচারে বিএনপিই শীর্ষে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জন্য সর্বোচ্চ খরচ করা যে পেজগুলো আছে, তার মধ্যে প্রথম ১০টির গত ৩০ দিনের খরচ এক করলে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৮২৮ ডলার। আজ মঙ্গলবার মুদ্রার বিনিময় মূল্য অনুযায়ী ২৪ লাখ টাকারও বেশি।
নির্বাচনী প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষিদ্ধ বা অবৈধ না হলেও মেটাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, যা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মেটার অ্যাড লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পেজ থেকে যেমন, তেমনি অন্য কোনো পরিচয়ের আড়ালেও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চলছে। ব্যক্তি রাজনীতিক থেকে শুরু করে দলীয়ভাবে পরিচালিত পেজগুলো থেকে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিধি মানা হলেও অন্য পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বিধি মানা হচ্ছে না।
মজার বিষয় হলো, এই শীর্ষ দশের মধ্যে একদম শীর্ষে থাকা MartSector পেজের ডিসক্লেইমারে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকলেও দেখা গেছে তারা সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে নির্বাচনী প্রচারে। ক্লথিং ব্র্যান্ডের পরিচয়ে ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই পেজের বিজ্ঞাপনের পেছনে এযাবৎকালে সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ৩৩৩ ডলার। গত ৯ বছরের মধ্যে এই পেজের গত ৩০ দিনের বিজ্ঞাপনের খরচই ৫ হাজার ৮৬৩ ডলার। আর এ কয়েক দিনে এই পেজ থেকে চলছে নির্বাচনী প্রচার; অর্থাৎ, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন।
মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনীতি সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিজ্ঞাপনে এর পৃষ্ঠপোষক বা অর্থায়নকারীর নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে মেটার স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে সেই বিজ্ঞাপন শনাক্ত হওয়া এবং দ্রুত সরিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু তেমনটি এই পেজের ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাদের প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলো এখনো দৃশ্যমান।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে এই নীতি অনুসরণ না করেও নির্বাচনী প্রচার চলছে ফেসবুকে। কিন্তু মেটা সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে তারা উল্লেখ করেছে, “বাণিজ্যিক পণ্যে রাজনৈতিক প্রতীক অনুসন্ধানে অন্তত ৪২টি এমন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলের লোগো সম্বলিত টি-শার্ট, ক্যাপ, হুডিসহ বিভিন্ন পণ্য বিপণন করা হয়েছে। মেটার নীতি অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন যেকোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন থাকবে বিশেষ ক্যাটাগরিতে। তবে প্ল্যাটফর্মটি এই ৪২টি বিজ্ঞাপনের একটিকেও সেভাবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি। ফলে এগুলোর অন্তর্নিহিত বার্তা রাজনৈতিক হওয়া সত্ত্বেও ব্যবহারকারীদের কাছে এগুলো কেবল সাধারণ ই-কমার্স বিজ্ঞাপন হিসেবে পৌঁছেছে।”
মেটা ডেটা বিশ্লেষণ করে এমন কিছু পেজের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা মেটার পলিসি না মেনেই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা ১০টি পেজের মধ্যে যে পেজগুলো রয়েছে, সেগুলো হলো–‘MartSector’, ‘Harbal Medicine-হারবাল মেডিসিন’, ‘BNP Media Cell’, ‘Araam: আরাম’, ‘Tarique Rahman’, ‘Anamon Premium-যৌবন শতদল’, ‘Health & Wellness’, ‘Dr. Khaliduzzaman SM’, ‘Bangladesh Nationalist Party-BNP’ ও ‘ইকো ফুড'স’।
বিএনপির লোগো
এর মধ্যে সরাসরি পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো পেজের সংখ্যা চারটি। যদিও মোট ৬টি পেজ থেকে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। শীর্ষ এ ১০টি পেজের মধ্যে ৫টি পেজ থেকে চালানো হচ্ছে বিএনপির প্রচার। আর জামায়াতের প্রচার চালানো হচ্ছে একটি পেজ থেকে।
সরাসরি বিএনপি মিডিয়া সেল, বিএনপির নিজস্ব পেজ ও দলটির শীর্ষনেতা তারেক রহমানের নামে পরিচালিত পেজগুলো ছাড়াও বিএনপি MartSector ও Araam: আরাম–এ দুই পেজ থেকে তাদের প্রচার চালাচ্ছে। এ দুটি পেজই পোশাকের ব্র্যান্ডের। তারা বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ, দলের লোগো ও দলীয় পতাকার রং ব্যবহার করে নানা ধরনের পণ্য বাজারে এনেছে, যার বিপণনকে সামনে রেখে তারা রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে।
মেটা অ্যাড লাইব্রেরি পর্যবেক্ষেণে দেখা যায়, গত ১ মাসে ফেসবুকে বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করা শীর্ষ ১০ পেজের মোট ব্যয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৮৯ শতাংশ। জামায়াতের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬ ও ১১ দশমিক ১ শতাংশ।
শীর্ষ দশে থাকা বিএনপির প্রচারে মোট ব্যয়ের ৬১ শতাংশের বেশি ব্যয় হয়েছে পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে মেটার বিধি মানা হয়নি।
মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, সামাজিক বিষয়, নির্বাচন বা রাজনীতি-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন চালাতে চাইলে যেকোনো বিজ্ঞাপনদাতাকে একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোনো বিজ্ঞাপন যদি কোনো রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নির্বাচন বা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে যায়, তবে তাতে অবশ্যই একটি ডিসক্লেইমার থাকতে হবে। এই ডিসক্লেইমারে বিজ্ঞাপনটির অর্থায়ন কে করেছে, তার নাম ও ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপনে কোনো দলের লোগো বা স্লোগান ব্যবহার করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়া উচিত। মেটার নীতি অনুযায়ী, “যেসব বিজ্ঞাপনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো পণ্য বিক্রি বা সেবা প্রদান, সেগুলোকে সামাজিক ইস্যু-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন হিসেবে গণ্য নাও করা হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অনুমোদন ও ডিসক্লেইমারের প্রয়োজন নেই। তবে এটি এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেখানে কোনো রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বা আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।” তবে বাস্তবে এই নীতিগুলোর প্রয়োগ শিথিল বলে মনে হয়। বিশেষ করে, বাংলা ভাষার কনটেন্ট এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে মেটার সিস্টেমের দুর্বলতা এই অনুসন্ধানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এতে যে প্রার্থীর ক্যাম্পেইনে ফ্ল্যাগ তোলা হবে এবং যার ক্যাম্পেইন মেটার চোখ এড়িয়ে যাবে, তাদের মধ্যে স্পষ্টত একটা বৈষম্য করা হবে। এতে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে রাজনৈতিক মেরুকরণে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মে এমন দুর্বলতা কতটা প্রযুক্তিগত আর কতটা ইচ্ছাকৃত, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।